দোয়ার গুরুত্ব অনেক। হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মগজ বলা হয়েছে। বান্দা যখন আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, নিজের প্রয়োজন ও অসহায়ত্ব তার কাছে তুলে ধরে, তখন সে মূলত আল্লাহর ওপর নিজের নির্ভরতা প্রকাশ করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির ৬০)
সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে এবং প্রয়োজনের সময় আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর স্মরণ ও তার কাছে প্রার্থনার জন্য কোরআন ও হাদিসে বিভিন্ন জিকির ও দোয়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম’, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ এবং দোয়া ইউনুস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম’-এর অর্থ হলো, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বরকতময় তোমার রবের নাম, যিনি মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।’ (সুরা আর-রহমান ৭৮) তিরমিজির এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বাক্যটি বেশি বেশি বলার নির্দেশ দিয়েছেন।
‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’-এর অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। সহিহ বুখারির এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বাক্যকে জান্নাতের একটি গুপ্তধন বলেছেন। এটি পাঠের মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে, প্রকৃত শক্তি ও সামর্থ্যরে মালিক একমাত্র আল্লাহ।
দোয়া ইউনুসও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দোয়াটি হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জলিমিন।’ অর্থৎ আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র ও মহিমান্বিত। নিশ্চয়ই আমি জালেমদের অন্তর্র্র্র্ভুক্ত ছিলাম।’ (সুরা আম্বিয়া ৮৭)
পরের আয়াতে আল্লাহ জানান, তিনি ইউনুস (আ.)-এর ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। হাদিসেও এই দোয়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
প্রতিদিনের জীবনে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত এই দোয়া ও জিকিরগুলো পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পাশাপাশি হালাল-হারাম মেনে চলা, সৎকাজ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাও জরুরি।
লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার