পরিচয় সংকটে যুবসমাজ,  উত্তরণ কীভাবে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ এএম

যুবসমাজ জাতির মস্তিষ্কস্বরূপ। মস্তিষ্কের সজীবতা দেহকে সচল রাখে। তেমনি মেধাবী, ন্যায়নিষ্ঠ ও পরিশ্রমী যুবসমাজ রাষ্ট্র ও জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। এ কারণেই যুবসমাজের উৎকর্ষ মানে রাষ্ট্রের উৎকর্ষ, আর তাদের পরিচয় সংকট মানেই রাষ্ট্রের পরিচয় সংকট।

বর্তমান যুগের তরুণ-কিশোররা নানা ধরনের মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে আত্মপরিচয় সংকট অন্যতম। ইন্টারনেটের এই যুগে হাজারো নকল মানদণ্ডের ভিড়ে নিজের আসল আত্মপরিচয় তৈরি করা তরুণদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এরই সঙ্গে নানা ধরনের ভ্রান্ত ও অপূর্ণাঙ্গ মতবাদের প্রসারের ফলে তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের আবিষ্কার করছে সত্য থেকে আরও দূরে।

এছাড়া আত্মপরিচয় গঠনে কোন মানদণ্ড অনুসারে যুবসমাজ কোন চিন্তাধারা গ্রহণ করবে, আর কোনটিই বা বর্জন করবে তা নিয়ে তারা এক চরম সংকটে ভুগছে। এজন্য আজকের এই যুগে যুবকদের পক্ষে পরিচয় সংকট কাটিয়ে শক্তিশালী আত্মপরিচয় গঠন করা আপাতদৃষ্টিতে অনেক কঠিন মনে হতে পারে।

আশার বাণী হলো, ইসলামের শাশ্বত জীবনব্যবস্থা এই সংকট উত্তরণে এক যুগান্তকারী পন্থা আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে ধূসর মরুভূমির মাঝে ইতিহাসের সবচেয়ে আদর্শবান জাতির সূচনা ঘটিয়ে আরবের পৌত্তলিকদের উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক সেভাবে আজও সেই পথ অবলম্বন করে একবিংশ শতকের এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক গঠনপদ্ধতি তরুণ সাহাবিদের অন্তরে এমন এক অটল আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল, যা তাদের যুগের সমস্ত সামাজিক ও মানসিক সংকটকে জয় করতে শিখিয়েছিল।

এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হলেন তার প্রিয় সাহাবারা। যাদের মধ্যে মুসআব ইবনে উমায়ের (রা.) অন্যতম। তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মক্কার কোরাইশদের মধ্যে অন্যতম অভিজাত তরুণ ছিলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপনই ছিল তার সামাজিক পরিচয়ের অংশ। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর তার মা ও গোত্র তাকে বর্জন করে, তার সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেয় এবং তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ফলে তার বাহ্যিক পরিচয়ে আমূল পরিবর্তন আসে। কিন্তু তিনি এতে ভেঙে পড়েননি। বরং নিজের মুসলিম পরিচয়কে জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) মাত্র আঠারো বছর বয়সে রাসুল (সা.)-এর নির্দেশে এক বিশাল সেনাবাহিনীর সেনাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। রোমান পরাশক্তির বিরুদ্ধে সাহাবিদের মতো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ দলের নেতৃত্ব দেওয়া তার ওপর রাসুল (সা.)-এর অগাধ আস্থা এবং ইসলামের যুববান্ধব নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।

সাহাবিদের এই সোনালি ইতিহাস আমাদের শেখায়, আত্মপরিচয়ের প্রকৃত ভিত্তি কোনো ঠুনকো সামাজিক অবস্থান বা ইন্টারনেটের ভুয়া ট্রেন্ড কিংবা বৈষয়িক চাকচিক্য নয়।

লেখক : শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত