রাষ্ট্রপতি বলেছেন

মেয়ে নিখোঁজের পরও বাবা-মায়ের উদ্বেগ না থাকা মানসিক সংকট

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরও বাবা-মায়ের উদ্বেগ না থাকা মানসিক সংকটের লক্ষণ এ মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, তাদের প্রতি পরিবারের দায়িত্ববোধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি কুমিল্লায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকার কথা তা তিনি লক্ষ্য করেননি। তার মতে, এ ঘটনা সমাজের গভীরে থাকা মানসিক সংকট ও উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরে।

তিনি বলেন, ‘সমাজের নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। কন্যাশিশুর প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ, তাদের চলাফেরায় নিরাপত্তা এবং বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’

কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে অবহেলা থাকলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের স্কুলের বাইরে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত না হওয়ায় মায়েদের ফুটপাতে কাগজ বিছিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তার মতে, এ পরিস্থিতি সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, কার্যকরী বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; এ জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা যেন ন্যায়বিচার পান তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কন্যাশিশু ও কিশোরীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহতের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। ওই শিক্ষার্থীর পরিবার কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে। এ ঘটনার পর নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত