উত্তাল দিল্লি, সিজেপির দুই নেতার পাঁচ দিনের জেল

দিল্লি পুলিশের সূত্রের দাবি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা আবারও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এর আগে তাঁদের কাছ থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। 

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। খবর এনডিটিভির।  

যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে সেখানে ঢুকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে জামানার শর্ত লঙ্ঘন, অনধিকার প্রবেশ এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। 

বুধবার সকাল ৮টার দিকে দিল্লির মন্দির মার্গ এলাকায় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করা হয়। পরে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তোলেন।

দিল্লি পুলিশের সূত্রের দাবি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা আবারও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এর আগে তাঁদের কাছ থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। পুনরায় একই ধরনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় আদালত তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

তবে অজিঙ্কা শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিন্ডেকে পাঁচ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদার দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাস শান্তি বজায় রাখা ও ভালো আচরণ নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার দিল্লিতে আরেকটি বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির বন্ড দিতে হয়েছিল বলে জানা গেছে। এবার সেই মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের পুনরাবৃত্ত অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং এর আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরের ঘটনায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আটক করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং রাত ৩টার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বুধবার দিল্লি পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ অক্টোবর সকালে সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা, অজিঙ্কা শিন্ডেসহ সিজেপির আরও ১১ সদস্য একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতর দিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই স্থানটি আর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে অনুমোদিত না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সেখানে যান বলে দাবি পুলিশের।

এ সময় এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ১৪ জনকেই আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য, বারবার জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা বিবেচনায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে প্রতিরোধমূলক আইনি বিধানের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদেরও একই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত