আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার কেরানীগঞ্জের প্রতিটি পূজামণ্ডপে আট ঘণ্টা করে তিন শিফটে পাহারার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ডাকসুর ভিপি আলহাজ আমান উল্লাহ আমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমান উল্লাহ আমান।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি যাতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাতের আঁধারে কেউ যাতে প্রতিমা ভাঙচুর করতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টরা আর ফিরে আসতে পারে না, ভবিষ্যতেও পারবে না। বাংলাদেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, তখন একটি মহল তা সহ্য করতে পারছে না। জিয়া পরিবারই দেশের মানুষের প্রাণ। তাই জনগণের আস্থা বিএনপির ওপর রয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, গত ১৭ বছরে তিনি ১১ বার কারাবরণ করেছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ দিনকে রাত এবং রাতকে দিন করেন। তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং জীবিতকে মৃত করেন। বেগম খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর বিচারেই ফ্যাসিস্টরা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কেরানীগঞ্জে কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে পাহারা দিয়েছেন। সে সময় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দল এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা না করেন। কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের এ দেশে ঠাঁই হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাজী হাসমত উল্লাহ নবী, সহসাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মনির, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি নিপেন চন্দ্র বর্মণ, সাধারণ সম্পাদক নিবাস সরকার এবং হিন্দু-বৌদ্ধ ঐক্য কমিটির সভাপতি মদন মোহন সরকারসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।