গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আপিলে ২৩টি যুক্তি তুলে ধরে তাঁকে খালাস দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়। বুধবার ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, মোট ২৩টি যুক্তি তুলে ধরে খালাসের আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল বিভাগে আপিল করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে ইনুকে পৃথকভাবে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে রায়ে বলা হয়, তাঁর সাজাগুলো যুগপৎ চলবে। ফলে তাঁকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে। এ ছাড়া দুটি পৃথক অভিযোগে তাঁকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইনুর বিরুদ্ধে এ মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে সাজা দেওয়া হয় এবং বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার কথা জানান প্রসিকিউটররা।
ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাঁর মক্কেলকে অভিযুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ নেই। তদন্ত একপক্ষীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কোনোভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। কেবল প্রসিকিউশনের রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে অনুমানভিত্তিক সাজা দেওয়া হয়েছে। এসব কারণেই খালাস চেয়ে আপিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।