স্ত্রীকে দিয়ে প্রথমে ফোনে কথা বলিয়ে ফেলা হয় প্রেমের ফাঁদে। এরপর দেখা করার কথা বলে ডেকে নিয়ে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে করা হয় অপহরণ। দাবি করা হয় অর্ধলাখ টাকা মুক্তিপণ। এমনই একটি চক্র আটক করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজার থেকে ওই চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো—পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের পূর্ব কায়েমকোলা গ্রামের হাসান আলীর ছেলে জামাল হোসেন, তার স্ত্রী পলি খাতুন ও তাঁদের সহযোগী উপজেলার মহাদেবপুর এলাকার মৃত মুনতাজ সরদারের ছেলে উকিল সরদার।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত ১৫ দিন ধরে পাবনার সানিকদিয়ার মো. কারিবুর (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ফোনে কথা বলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জামালের স্ত্রী পলি খাতুন।
পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার তাকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার জন্য ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা পলির সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করেন। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তাঁর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার কোনো উপায় না দেখে তৎক্ষণাৎ পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দিনব্যাপী তদন্ত ও অভিযান শেষে সন্ধ্যায় ভাঁড়ারার শ্রীপুর বাজার থেকে অপহৃত ব্যক্তি ও তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ সময় প্রথমে অপহরণকারী চক্রের ২ জন ও পরে আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আব্দুস সালাম বলেন, গ্রেপ্তার জামাল তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে কথা বলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণসহ হানিট্র্যাপে ফেলে অর্থ আদায় করত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায়ও স্ত্রীকে দিয়ে ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীকে ট্র্যাপে ফেলে অপহরণ করে চক্রটি। এরপর তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাতে থাকে। সবশেষ ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে একটি এজেন্ট বিকাশ নম্বর দেওয়া হয় টাকা পাঠাতে। এর সূত্র ধরে ওই বিকাশের দোকানে গিয়ে জামাল ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে জামালের স্ত্রী পলি খাতুনকে পূর্ব কায়েমকোলার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় দায়ের হওয়া মামলা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।