গাজীপুর ও উত্তরায় সড়ক অবরোধ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ এএম

বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুরে ও  রাজধানীর উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘সি স্টেজ বিডি লিমিটেডের’ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। প্রায় ১ ঘণ্টা পর সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলেও তিনি জানান।

এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত ১০ অক্টোবর তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সেদিন সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন ১৩ অক্টোবর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দিনে বেতন না পেয়ে তারা আবারও আন্দোলনে নামেন। গত বুধবার বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিশোধ না করে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করতে থাকে এবং বৃহস্পতিবার কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

এর জেরে সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। পরে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বেতন পরিশোধের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়।

শ্রমিকরা প্রস্তাব উপেক্ষা করে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকেন। এ সময় মহাসড়কে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ পেছনে ফিরে এসে মহাসড়ক অবরোধে থাকা শ্রমিকদের সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের কর্মকর্তা আমজাদ হোসাইন বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিকদের মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার প্রস্তাব জানিয়ে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা অনুরোধে সাড়া না দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তাই কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের বেতনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তাদের যে অভিযোগ, কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিকদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, রাবার বুলেটে আহত ৯ শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ প্রত্যাহার : এদিকে  বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় আবারও সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তবে দুপুরের পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করায় বর্তমানে এই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আন্দোলনকারীরা আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে সড়কের অবস্থান ছেড়ে দিয়েছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের এ আন্দোলন টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। গতকাল সকালেও উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষী এলাকায় শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উত্তরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে অফিসগামী মানুষ, যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতনে জীবনযাপন করা অসম্ভব। বকেয়া পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট দাবিতে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন বলেও জানান।

শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত