সীমান্তে মৃত মায়ের মুখ দেখার সুযোগ মিলেছে

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ এএম

বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে ভারতে মারা যাওয়া মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশে বসবাসকারী মেয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তের মেইন পিলার ১০৯-এর কাছাকাছি নাজিরা পশ্চিমপাড়া এলাকার শূন্যরেখায় মরদেহ দেখানোর এ ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় দুই দেশে বসবাসরত আত্মীয়স্বজন পরস্পরকে দেখতে সীমান্তের উভয় পাশে ভিড় করলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।

মুজিবনগরের নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলাম জানান, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মোছা. জায়রা (৭০) নিজ বাড়িতে শারীরিক অসুস্থতায় মারা যান। প্রায় ৫ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি মেয়ে হাফিজার। মোবাইলে ভিডিওকল ছিল তাদের দেখার ও যোগাযোগের শেষ ভরসা। কিন্তু সীমান্ত উত্তেজনায় মাঝে মধ্যেই নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে পড়লে তাও সম্ভব হতো না।

বিজিবি সূত্র জানায়, জায়রার মেয়ে হাফিজা খাতুন বসবাস করেন বাংলাদেশের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাফিজা শেষবারের মতো তার মায়ের মুখ দেখার জন্য বিজিবির কাছে আবেদন করেন। অপরদিকে ভারতে বসবাসরত আত্মীয়রা বিএসএফের কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে শূন্যরেখায় মরদেহ দেখানোর বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

সেখানে উপস্থিত হয়ে মেয়ে হাফিজা খাতুন শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখেন। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগরের নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামসহ বিজিবির পাঁচ সদস্য। ভারতের পক্ষে ছিলেন বিএসএফের পাথরঘাটা ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর এসকে রায়সহ পাঁচ সদস্য। মৃতের স্বজনরা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের এই মানবিক উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত