শাহ আমানতে ফ্লাইট ঝুঁকি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ এএম

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চোর চক্র রাতের আঁধারে ভূগর্ভস্থ কেবল, রানওয়ে লাইট, লাইটিং ট্রান্সফরমারসহ বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত এক মাসে রানওয়ে, স্পর্শকাতর এরিয়া ‘ভিওআর’ (ভয়েস ওভার রেটিং) এলাকা থেকে ৯ দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোয়া যাওয়ার সরঞ্জামের মূল্য অর্ধকোটি টাকা।

অভিযোগ আছে, সম্প্রতি চোর চক্রের এক সদস্যকে মালামালসহ হাতেনাতে আটক করেও ছেড়ে দিয়েছে নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানতে চাইলে এক মাসে ৯ দফা চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শাখার প্রধান তারেক জিয়াউদ্দীন সজিব।

সিভিল অ্যাভিয়েশনের মেম্বার সেক্রেটারি এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে একাধিকবার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে কল করলেও রিসিভ করেননি বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নুর হোসেন।

জানা গেছে, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ অডিট করতে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট। তারা বেবিচক সদর দপ্তর, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো খতিয়ে দেখবেন। এমন পরিস্থিতিতে মানোন্নয়ন সূচকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর কতটা এগিয়ে যাবে সেই প্রশ্ন তুলেছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে গত এক মাসে বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে ৯ বার চুরির ঘটনা ঘটলেও বেবিচক তো দূরের কথা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও বিষয়টি জানায়নি শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, গত এক মাসের ব্যবধানে বিমানবন্দর এয়ারসাইটে (যেসব জায়গায় উড়োজাহাজ অবস্থান করে) রানওয়ের লাইট, লাইটিং ট্রান্সফরমার, সেকেহুারি কেবল কিড, ৫০০ গজ দূরত্বের স্ট্রিট লাইট, তামার  কেবল, ভিওআরর পাওয়ার কেবল ও বৈদ্যুতিক কেবল সহ ৯টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে এর কিছুই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ  সদর দপ্তরকে জানায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ অক্টোবর চোরের দল ২০টি ট্রান্সফর্মার সেকেন্ডারি কিট এবং রানওয়ে লাইটসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়। এর আগে গত ৯ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ অ্যাপোচ এলাকা থেকে পাঁচ ফুট মাটির নিচে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক কেবল কেটে তামার তার চুরি করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ২৩ অ্যাপ্রোচ এলাকায় রানওয়ে লাইটিং সিস্টেমের ম্যাগনেটিক কন্টাক, লুপিং কেবল, ডিভাইস, আন্ডার গ্রাউন্ড কেবল চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর কার্গো শাখার পশ্চিম প্রান্ত থেকে রানওয়ের শেষপ্রান্ত ৫ অ্যাপ্রোচ এলাকা থেকে সিকিউরিটি লাইটের কেবল কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কেবল চুরির কারণে দুই দিন ওই এলাকা অন্ধকারে ছিল। এ সময় নিরাপদে বিভিন্ন উড়োজাহাজ অবতরণ করতে না পেরে ডাইভার্ট হয়ে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে বিমানবন্দরের দক্ষিণ প্রান্তে সীমানার ভেতর থেকে গত এক মাসে দুইবার বৈদ্যুতিক কেবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে ভিওআর এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক কেবল চুরির সময় মালামালসহ এক চোরকে আনসার সদস্যরা আটক করে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে সোপর্দ করলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি আইনি কোনো পদক্ষেপ। এদিকে বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জাপানি গেট-সংলগ্ন বিজিবি হ্যাঙ্গার এলাকা থেকে ১২ হাজার কিলোভোল্টের বৈদ্যুতিক কেবল কেটে নিয়ে গেছে চোরের দল। অথচ বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জাপানি গেটসহ তিনটি গেটে সার্বক্ষণিক বেবিচকের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত