তাজমিন হত্যাকাণ্ড: কথিত প্রেমিক রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে কক্সবাজারে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

কক্সবাজার সদর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে আইনজীবী রাশেদ নিশ্চিত করেন রাজুই তাজমিনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজার এনেছিল এবং ধর্ষণ করেছে বলে অবহিত করেন। এ সময় তাজমিনের অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছর) হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের সঙ্গে রাজুর (২০) সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৬ অক্টোবর তারা কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওঠেন। পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে তাজমিন একাই বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং সেখানে পৌঁছানোর পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

তাজমিন কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক (সুমন মিয়া) তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে, যা সে আদালতে স্বীকারও করেছে. কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাজমিন হত্যাকাণ্ডে রাজুর সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না পেয়ে তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

তবে কক্সবাজারের আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, রাজু যদি কিশোরী তাজমিনকে মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয়ে ফুসলিয়ে কক্সবাজারে এনে ধর্ষণ না করত, তবে ফেরার পথে এই করুণ পরিণতি হতো না। এই বিবেকের তাড়না থেকেই তিনি আদালতে ধর্ষণের অভিযোগটি উত্থাপন করেন।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজারে আসে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজুকে কুমিল্লায় নেয়া নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা।

কুমিল্লা পুলিশ তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে, শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত