রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে, ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ভুল করে ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা জারি করে। এর জেরে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। খবর রয়টার্সের।
ইএমএসসি-র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল এর কেন্দ্রস্থল। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিট নাগাদ এই ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। মার্কিন জাতীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্রও জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের জেরে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই। তবে কম্পনের ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা জারি করে। সংবাদমাধ্যম বিএনও নিউজের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির প্রকৃত পরিমাপে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৯। কিন্তু সতর্কবার্তায় ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের কথা জানানো হয় এবং জাপানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল কম্পন অনুভূত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা মাত্রার ভূমিকম্প সত্যি হলে, তা ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে উঠত। এখনও পর্যন্ত যন্ত্রের সাহায্যে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ১৯৬০ সালে চিলির ভালদিভিয়া অঞ্চলে। সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯.৫।
প্রশান্ত মহাসাগরের অধিকাংশ অংশ ঘিরে থাকা ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত ভূকম্পপ্রবণ টেকটোনিক বলয়ের মধ্যে পড়ে কামচাটকা উপদ্বীপ। এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। গত বছরের জুলাই মাসেও এই অঞ্চলের উপকূলের কাছে ৮.৮ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্পের জেরে সুনামি সৃষ্টি হয় এবং উপকূলের একটি গ্রামের একাংশ সমুদ্রে ভেসে যায়।