আবারও বিতর্কে বহুল চর্চিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। দু’তিন ধরে সিনেমা ও নেটপাড়ায় মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে দিশেহারা এই অভিনেত্রী। এআই প্রযুক্তির কারসাজি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি নেটিজেন এমনকি নিজের ফলোয়ারদের প্রতিও ক্ষিপ্ত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে বিশেষ করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে দফায় দফায় লাইভে এসে নানানভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শুক্রবার মধ্য রাতে লাইভে এসে পরীমানি বলেন, ‘ভিডিওটি নতুন নয়, প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে থেকেই অনেকে তাকে এটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন। তবে একটি ভেরিফায়েড গণমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আমাকে মামলা করতে বলেছেন। কিন্তু আমি মামলা করব না। একটা মামলা করে ১৪টি মামলা খাওয়ার শখ নেই আমার।’ মাছরাঙা টিভিকেও আক্রমন করেন পরীমনি। চ্যানেলটির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকা্শ করা হলেও এতে তার কোনো উপকার হয়নি বলেও উল্লেখ করেন নায়িকা। ভিডিওতে মাঝে মধ্যেই উত্তেজিত হয়ে আগের মতো অশ্রাব্য ভাষায় কথাও বলতে দেখা যায় তাকে।
রাত পোহালেই আজ শনিবার ( ১৭ অক্টোবর) সাত সকালে নতুন একটি পোস্ট দিয়ে এই অভিনেত্রী শুরুতেই লেখেন, ‘Oops sorry! ডিলিট করে দিছি। Good Morning!’। এরপর দুঃখে ভরা তার স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ করে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করেছেন তিনি। পরীমনি লেখেন, ‘ডিয়ার মাছরাঙা টেলিভিশন, আপনাদের এই জাস্ট একটা ফটো কার্ডের দুঃখ প্রকাশ কোনো কাজে দিচ্ছে না একদমই। এই যে আমার স্বাভাবিক জীবনটা এইভাবে আবার দুর্বিষহ করে দিয়েছেন, এর সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাদের। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো রকম কোনো পোস্ট করতে পারছি না। হোক সেটা আমার কাজের বা আমার ব্যক্তিগত।’ পরীমনির ভাষ্য, শুধু ‘সরি’ বললেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। ভিডিওটি প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাইলে আরও দ্রুত সেটি সরিয়ে ফেলা সম্ভব ছিল।
ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যারা অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাদেরও সমালোচনা করে পরীমনি জানান, কেউ কেউ অন্যের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে গিয়ে ভিডিওটির লিংক আছে কি না, তা জানতে চাইছেন। এ ধরনের আচরণের মাধ্যমে তারা নিজেদের মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে তার সন্তানদের ছবিও নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাচ্চাদের ছবিও বাদ যাচ্ছে না হাজার হাজার হেটিং কমেন্টস থেকে। কি করব বলেন এবার! আমার জীবনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিলেন! আমার কাজ নষ্ট করে দিলেন। এরপর কি বাকি থাকল আর।’