বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চার একর কৃষি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে দৌলতপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। ওই ইউনিয়নের বালুচর গ্রামে এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

ঘটনাস্থলে ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতপুর ইউনিয়নের চরসাহাপুর মৌজার সাড়ে চার একর কৃষি জমি বালুচর গ্রামের তালুকদার পরিবারের অংশীদাররা একশ বছর যাবৎ ভোগ দখলে চাষ করছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) একই গ্রামের আব্দুস সালামের লোকজন নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে ওই জমিতে চাষ দিয়ে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এনিয়ে তালুকদার পরিবারের লোকজন বাধা দিতে গেলে তাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ও তার লোকজন মারধরের হুমকি দেয় বলে জানান ভুক্তভোগী রকিব তালুকদার।

তিনি বলেন, ‘বালুচর গ্রামের চরসাহাপুর মৌজায় সাতটি খতিয়ানে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির পরিমাণ ৪ একর ৬০ শতক। সিএস, আরএস ও বিএস খতিয়ানসহ খাজনা ও নামজারিসংক্রান্ত সকল কাগজপত্র আমাদের নামে থাকার পরও চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আমাদের ৪ একর জমিতে জোরপূর্বক দখল করে হাল দিয়েছে। বিষয়টি আমরা থানা পুলিশসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছি।’

দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল ইসহাক জানান, বিএনপির নাম ভায়ে বালুচর গ্রামে কৃষি জমি দখলের বিষয়টি দলর ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানাজানি হলে বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য দল থেকে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুক্রবার (১৬অক্টোবর) বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাগজপত্রে যেটা জেনেছি, তালুকদারদের অন্তত একশো বছরের দখল এবং খতিয়ানের ধারাবাহিকতা রয়েছে। এখন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোনো রকমের ডকুমেন্টস ছাড়া গায়ের জোরে অন্যের জায়গা জমি দখল করতে পারেন না। কিন্তু এখানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সেটাই করেছেন। যা ফৌজদারী অপরাধ। তাছাড়া দলের সঙ্গে সালাম চেয়ারম্যান  কোন রকমের সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’

চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বাপ দাদার নামে সিএস খতিয়ান রয়েছে, ওই খতিয়ান থেকে কোন সম্পদ বেচাবিক্রি হয়েছে বলে জানা নেই। তারা যদি কোন সম্পদ ক্রয় করে থাকে তাহলে দলিল দেখালে হয়তো এই বিব্রতকর পরিবেশ পরিস্থিতি হতো না এবং আমাদের কারো আপত্তির সুযোগ থাকতো না। এখন তারা অর্থের প্রভাবে পেশিশক্তির মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করছে। এখন আমরা আদালতের দারস্থ হব।

দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন,  আমি চেয়ারম্যান থাকায় মানুষের দাবি নিয়ে কথা বলতেই পারি, এটা অপরাধ জানতাম না। আর বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোন প্রভাব বিস্তার করার প্রশ্নই উঠে না। এগুলো মিথ্যাচার, সামনে নির্বাচন আসছে তাই এই মিথ্যাচার করছে একটি পক্ষ।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর জমিজমার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি।  পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যেহেতু মালিকানার বিষয়ে ফয়সালা দেয়া ক্ষমতা আদালতের, তাই উভয় পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত