ফ্রান্সে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ১,৮০০ ছাড়াল

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার(১৮ অক্টোবর) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার দেশজুড়ে ঘটা এসব বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর ফ্রান্স ২৪ এর। 

বিক্ষোভের সময় দেশজুড়ে প্রায় দেড় হাজার দোকান ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই লুটপাট চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান আলেক্সান্দ্র বোমবার্ড।

ফ্রান্সের খুচরা ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের সভাপতি বোমবার্ড এলসিআই টেলিভিশনকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা মোকাবিলায় রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় জরুরি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে অর্থনীতি ও বাণিজ্য, বিমা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁ শহরের মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ওই বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবারের বিক্ষোভে পাঁচ শতাধিক পুলিশ, জেনদারমেরি বাহিনীর সদস্য ও দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এ সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এসব সংঘর্ষে কতজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে, শনিবারের বিক্ষোভে রাজধানী প্যারিসে ৮৫৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ, যা শহরটিতে বিক্ষোভের ঘটনায় রেকর্ডসংখ্যক গ্রেপ্তার। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের পর ৫০০ জনের বেশি ব্যক্তি পুলিশি হেফাজতে ছিলেন।

অন্যদিকে, লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার যখন জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি, নিরাপত্তাকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা এবং ব্যাপক গ্রেপ্তার দেশটির অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত