রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

রাড্ডা হাসপাতাল থেকে আমাদের শত শত মা ও শিশুরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার আপনারা কেড়ে নেবেন না।

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, মদদদাতাদের চিহ্নিত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।

এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। রবিবার(১৮অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন সমাবেশে তাঁরা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা এখানে কোনো ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক দাবি নিয়ে আসিনি। রাড্ডা হাসপাতাল থেকে আমাদের শত শত মা ও শিশুরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার আপনারা কেড়ে নেবেন না।

তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন না কেনো? গণমাধ্যমে এসেছে, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের পেছনেও মদদদাতা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়।

সেলিম উদ্দিন বলেন, রাড্ডার ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। এই ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের নাম পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সরকার তা করতে ব্যর্থ হলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।

হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া একটি ওষুধও বাদ দেওয়া যাবে না সব ফিরিয়ে দিতে হবে। হাসপাতালটিকে একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর আইনগত কর্তৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে। কোনো দালালচক্রের হাতে এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে না।

চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ করতে হবে। জনগণ রাস্তায় নেমে এলে আবারও জুলাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পুলিশি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি ভাঙচুর করা হয়েছে আমরা সেই দৃশ্য দেখেছি। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণও তদন্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মিরপুরে কোনো চাঁদাবাজ থাকতে পারবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করবই। আমাদের পুলিশের গুলির ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।

মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি বলেন, মিরপুরে সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠান এই রাড্ডা হাসপাতাল। শত শত মা ও শিশু এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অথচ এই হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা নিয়মিত এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। প্রশাসন যদি সাত দিনের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর চেয়েও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা, কোনো তালবাহানা চলবে না। গডফাদার পাবেল এবং লেলিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীব সহ যারা জড়িত তাদেরকে সাত দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লুট হওয়া ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী ফিরিয়ে দেওয়া, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের পাশাপাশি নেপথ্যের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, জামায়াত নেতা ডা.মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত