প্রধানমন্ত্রী যদি প্রতি মাসে একবার চট্টগ্রামে আসতেন!

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর লাভলেইন এলাকার বাসিন্দা মো. সফিউল আলম। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বসবাস করলেও ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটার সুযোগ খুব একটা পাননি তিনি। ফুটপাতজুড়ে টংদোকান ও ভ্রাম্যমাণ হকারদের দখল ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বদলে গেছে সেই চিত্র। কাজীর দেউড়ি ও লাভলেইন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে সফিউল আলম বলেন, ‘সর্বশেষ কবে ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটেছি, মনে নেই। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন সহজে হেঁটে যেতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী যদি প্রতি মাসে একবার করে চট্টগ্রামে আসতেন, তবে চট্টগ্রামের চেহারাই পাল্টে যেত।’

নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। পরে নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার সার্কিট হাউসে বিশ্রামের পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে দলীয় সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে শুধু ফুটপাত দখলমুক্ত করাই নয়, নগরীতে চলছে নানা উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ। বন্দরনগরীর প্রধান সড়কগুলোর চেহারাতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারেন, সেগুলোর খানাখন্দ ভরাট করে নতুন করে কার্পেটিং করা হয়েছে। আশপাশের ফুটপাতও করা হয়েছে দখলমুক্ত। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ঝকঝকে করার পাশাপাশি ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকার দূর করতে নতুন সড়কবাতি স্থাপনের পাশাপাশি অচল বাতিগুলো সচল করা হচ্ছে। সড়ক বিভাজকে নতুন ফুলের চারা লাগিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে।

যদিও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কাজ নিয়মিত সংস্কার কার্যক্রমেরই অংশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মূল অনুষ্ঠানস্থল ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে একটি তোরণ। সেখান থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত করা হয়েছে আলোকসজ্জা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেখানে ডিজিটাল পর্দা স্থাপনসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এ স্থাপনায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর মাস্টারদা সূর্য সেন, যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, নেলী সেনগুপ্তা ও মহিমচন্দ্র দাসের আবক্ষ মূর্তিও সংস্কার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জে এম সেন হলকে চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে। সেখানে কোনো ব্যানার বা পোস্টার রাখা হচ্ছে না। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বীরদের আবক্ষ মূর্তিও সংস্কার করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক নগরী হিসেবে সাজিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে সিটি করপোরেশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক উন্নয়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগ শুধু প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নয় উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘নগরবাসীর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত