'সারা দুনিয়াকে গরু খাওয়ায়, তবে নিজ দেশে গরু খাওয়ার অপরাধে মানুষ মেরে ফেলে’: সাবেক রাবি উপাচার্য

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পিএম

উপমহাদেশের একটি দেশে সারা দুনিয়াকে গরু খাওয়ালেও নিজ দেশে গরু খাওয়ার অপরাধে মানুষ মারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেছেন, “এই উপমহাদেশ একটা অদ্ভুত জায়গা। একটা দেশের মুসলিমদের একাংশের জীবনে গরু বড়সড় একটা অংশ নিয়ে আছে। গরু ইমোশনের একটা অংশ। আরেকটি দেশ, পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বীফ এক্সপোর্টার।”

গতকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

সাবেক এই উপাচার্য বলেন, “এই উপমহাদেশ একটা অদ্ভুত জায়গা। একটা দেশের মুসলিমদের একাংশের জীবনে গরু বড়সড় একটা অংশ নিয়ে আছে। গরু ইমোশনের একটা অংশ। আরেকটি দেশ, পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বিফ এক্সপোর্টার। সারা দুনিয়াকে গরু খাওয়ায়, তবে নিজ দেশে ‘গরু খাওয়ার অপরাধে’ অবলীলায় মানুষ মেরে ফেলে। এর পেছনে অনেক ইতিহাস। এই ইতিহাস ম্যাচিউরিটির সাথে হ্যান্ডেল করতে না পারলে যা হয়, তা-ই বাংলাদেশে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, গরু নিয়ে ‘গরুগম্ভীর’ আলোচনার কোনো ইচ্ছে নেই। গরু-সংক্রান্ত তিনটি কাহিনি মনে পড়ছে। কুষ্টিয়া আমার ছোটবেলার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একবার ঈদের ক’দিন আগে দুই খালাতো ভাইসহ চুল কাটতে বের হয়েছি। রেলস্টেশনের কাছে এক সেলুন। প্রায় চল্লিশ বছর আগের ঘটনা। আমার এই দুই খালাতো ভাই, আমার সবচেয়ে বড় দুই বন্ধু।

অধ্যাপক নকীব বলেন, “তাদের সাথে হাজার স্মৃতি। দুজনেই ভালো মোটরসাইকেল চালাত। আমি পারতাম না। সেলুন থেকে বের হয়ে একটু মোটরসাইকেল চালাতে ইচ্ছে হলো। সাথে তো দুই ওস্তাদ আছেই। অনেক সবক-টবক দিয়ে আমার হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া হলো। প্রায় যখন সদর হাসপাতালের মোড়ে, এক ছেড়ে দেওয়া গরু হেলেদুলে রাস্তা পার হচ্ছিল। তার হাবভাব দেখে কিছুটা নার্ভাস হয়ে গরুর সাথে মাঝারি সংঘর্ষ। গরুর থেকে আমি বেশি ব্যথা পেয়েছিলাম। মনের ব্যথাটা ছিল আরও বেশি। সেই শেষ মোটরসাইকেল চালানোর প্রচেষ্টা।”

নিজের ফেসবুক একাউন্টে তিনি বলেন, “আজ অকপটে স্বীকার করি, স্কুল-কলেজ প্রচুর ফাঁকি দিয়েছি। ইউনিভার্সিটি স্কুলের কাছেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ— এখন রুয়েট। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ভরদুপুরে রুয়েটে ঘুরেছি অনেক। রুয়েটের মাঠ সে সময় গরুর চারণভূমি। একটা বদরাগী গরু ছিল। আমি এবং আমার বন্ধু রোমেল দ্রুত সাইকেল চালিয়ে গরুটার খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার পথে মুখ দিয়ে একটা বিকট শব্দ করতাম।”

গরু প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গরু চমকে গিয়ে বিপুল বিক্রমে আমাদের সাইকেল তাড়া করত। অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পিওর অ্যাড্রেনালিন রাশ। বাঙালির বুল ফাইটের মজা। আমরা তখন সেটাই ভাবতাম। এখন মনে হয়, এটা ছিল গরু হ্যারাসমেন্ট। সুযোগ থাকলে গরুটাকে সরি বলে আসতাম। তৃতীয় এবং শেষ ঘটনা হচ্ছে, জীবনে একাধিকবার গরুর লেজের বাড়ি খাওয়া। কোরবানির আগে দাদাবাড়িতে। আপনারা এই বাড়ি খেয়েছেন? বেশ লাগে।”

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত