অনুসন্ধানে তল্লাশির ক্ষমতা চায় প্রতিযোগিতা কমিশন

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষমতা চায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ে প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের হিসাবের খাতাপত্র, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করবে সংস্থাটি। নতুন এই বিধান যুক্ত করে ‘বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আইন, ২০১২’ সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সংশোধিত আইনের খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। এই খসড়া আইনের ওপর সব ধরনের অংশীজনদের মতামত চাওয়া হয়েছে। এ জন্য এক মাস সময় ঠিক করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আইন পাস করা হয়েছিল।

সংশোধিত আইনের খসড়ায় ধারা ৮ এর ৪ক-তে নতুন বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে তল্লাশি ও জব্দ। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই কমিশনের ক্ষমতা প্রদানে অসহযোগিতা বা বাধা সৃষ্টি করে তবে কমিশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তল্লাশি ও জব্দ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনের লিখিত আদেশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

এই ধারার আওতায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট স্থান, ভবন, কক্ষ বা অফিসে প্রবেশ ও তল্লাশি করবে। আলামত হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বই, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক ডাটা, সফটওয়্যার বা অন্য যেকোনো বস্তু জব্দ করবে। জব্দ করা বস্তু নির্ধারিত সময়ের জন্য সাময়িকভাবে কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং প্রয়োজনে কমিশনের নির্দেশ সাপেক্ষে ফেরত দেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ থাকবে। তবে তল্লাশি বা জব্দ কার্যক্রম পরিচালনার সময় ন্যূনতম দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হবে।

এর ব্যাখ্যায় কমিশন বলছে, তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার প্রেক্ষাপটে তল্লাশি ও জব্দের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ক্ষমতা মূলত প্রতিষ্ঠানের হিসাবের খাতা, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করার জন্য ব্যবহার করা হবে। এক্ষেত্রে আয়কর আইন ও মূল্য সংযোজন কর আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই ধারার পাশাপাশি ধারা ১২(১) এ কিছুটা পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই ধারায় কমিশনে সরকারের নিয়োগ করা একজন সচিব রয়েছেন। তবে এখানে কমিশন একজন নির্বাহী পরিচালকের প্রস্তাব করেছেন।

জানা গেছে, কমিশনের আইনটি যুগোপযোগী করার জন্য তা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য কোনো কোনো ধারায় বিশদ ব্যাখ্যা বা স্পষ্ট শব্দ যোগ করা হচ্ছে। যুক্ত করা হচ্ছে নতুন নতুন ধারা। খসড়ায় দরপত্র জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বেশ কিছু উপধারার স্পষ্ট ব্যাখ্যার পাশাপাশি নতুন বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ধারা ১৫(২)(ক)(ই)-তে নতুন বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে প্রতারণামূলক দর নির্ধারণ করে। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রতারণামূলক দর নির্ধারণপূর্বক বাজারকে প্রভাবিত করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে।

বর্তমানে কোনো একক প্রতিষ্ঠান আইনের অপব্যবহার করে বাজারে শক্তিশালী অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশোধনীর খসড়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে বাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইনের অপব্যবহার করলে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রস্তাব : কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আলাদা প্রতিযোগিতা আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে খসড়ায়। এতে একজন চেয়ারম্যান ও সর্বোচ্চ দুজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যান হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি অথবা অন্তত ২০ বছরের বিচারিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি নিয়োগ হবেন। অন্য সদস্যদের অর্থনীতি, আইন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা সনদপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত