সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট পুরনো রোগে ভুগছে। রান তাড়ায় দুর্বলতা, জুটি গড়তে না পারার ব্যর্থতা আর চাপের মুহূর্তে খেই হারানো। এসব কাটিয়ে ওঠার পরীক্ষায় আজ শারজায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে শুধু জয় নয়, ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণও মেলাতে হবে তাওহীদ হৃদয়ের দলকে। যে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে সমীকরণের মারপ্যাঁচে পড়েছে বাংলাদেশ দল, তাদের বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে আফগানরা। ফলে হৃদয়দের সামনে চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি।
রান তাড়া করার পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ দলের উদ্বেগ বাড়ছে। লক্ষ্য টপকাতে নেমে সর্বশেষ ২৫ ওয়ানডেতে জয় এসেছে মাত্র ৯টি। এর মধ্যে আড়াইশর বেশি রান তাড়া করে জিতেছে মাত্র তিনবার। এমন সর্বশেষ জয়টি আসে আড়াই বছর আগে, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, লক্ষ্য বড় হলে কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলে বাংলাদেশের ব্যাটিং কতটা চাপে পড়ে। আফগানদের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেই পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি চান না তানজিদ হাসান তামিম।
নিজেদের দুর্বলতার জায়গাগুলো স্বীকার করেছেন এই ওপেনার। আগের ম্যাচে রান তাড়ায় ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে গতকাল এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘উনি (তাসকিন আহমেদ) যেটা বলেছেন, সত্য কথা বলেছেন। আমরা আমাদের ব্যাটিং ইউনিটে দায়িত্ব নিতে পারিনি। উইকেট যথেষ্ট ভালো ছিল। আমার কাছে মনে হয়, এই রান তাড়া করার মতো ছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছি, আমার কাছে খুব ভালো লাগছিল। দুর্ভাগ্যবশত আউট হয়ে গিয়েছি। তবে আমাদের সবারই দায়িত্ব নেওয়া উচিত, এটা আমার মনে হয়।’
ব্যাটারদের মানসিক দুর্বলতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তামিম, ‘অবশ্যই এটা মানসিকতার ব্যাপার। তিনশ বা সাড়ে তিনশ না ভেবে ছোট ছোট টার্গেট করে যদি খেলি, তাহলে জিনিসটা সহজ হবে। এভাবেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে আমাদের।’ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘাটতি নিয়েও তার উপলব্ধি স্পষ্ট, ‘আমার মনে হয়, এখানে ধারাবাহিকতা আর মানসিকতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটো এক হলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভালো করতে পারব আমরা।’ তবে ব্যাটারদের স্কিলের কোনো সমস্যা দেখছেন না তামিম, ‘স্কিলের সমস্যা থাকলে ঘরের মাঠেও ভুগতাম। ঘরের মাঠে যেভাবে খেলি, একই মানসিকতা নিয়ে যদি ফুললি কমপ্যাক্ট হয়ে খেলতে পারি, আমার মনে হয় ভালো হবে। খুব ভালো একটা আলোচনা হয়েছে টিম মিটিংয়ে। আমার মনে হয়, ইতিবাচক কিছুই হবে সামনে।’
আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু ভালো খেলাই যথেষ্ট নয়, এর বাইরেও অনেক হিসাব মেলাতে হবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানরা আগে ব্যাট করে ২৯৪ রান তুলে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দিয়েছে মাত্র ১৩৬ রানে। ১৫৮ রানের এই জয়ে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগের সামর্থ্যই প্রমাণ দিয়েছে তারা। স্পিননির্ভর আক্রমণ, বড় সংগ্রহ গড়ার ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখার দক্ষতা সেদিকউল্লাহ আতাল-রাশিদ খানদের কঠিন প্রতিপক্ষ করে তুলেছে। শারজায় বাংলাদেশের রেকর্ডও আশাব্যঞ্জক নয়। এই মাঠে আটটি ওয়ানডে খেলে জয় মাত্র এক ম্যাচে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইও এখন সমানে সমান। ২২ ম্যাচে দুই দলই জিতেছে ১১টি করে। তবে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে আফগানদের এগিয়ে থাকার বিষয়টি হৃদয়দের জন্য বাড়তি সতর্কবার্তা।
ফাইনালের সমীকরণও বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন। শুধু জিতলেই হবে না। আগে ব্যাট করলে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হবে। বাংলাদেশ যদি পরে ব্যাট করে, তাহলে প্রয়োজনীয় রান নির্দিষ্ট ওভারের মধ্যে তাড়া করতে হবে। যেমন, আফগানিস্তান ২৫০ রান করলে তামিমদের ২৫১ রান করতে হবে ৪১ ওভার ৩ বলের মধ্যে। অর্থাৎ, শুধু জয় নয়, রান তোলার গতি ও জয়ের ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। জিম্বাবুয়ের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও নির্ভর করছে এই ম্যাচের ফল ও ব্যবধানের ওপর। অঙ্কের হিসাব যতই জটিল হোক, সেটা মেলানোই লক্ষ্য বাংলাদেশের। এ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করি দলকে ভালো কিছু দেওয়ার। হয়তো কখনো পারি, কখনো পারি না। যত ধারাবাহিক খেলব, তত সামনে এগিয়ে যাব আমরা।’