পারভেজ-ইমতিয়াজের দুর্ভাগ্য ও কান্নার দিন

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ এএম

এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমস আর এশিয়ান প্যারা গেমস- দুটি ভিন্ন গেমস। সেই পার্থক্যই বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের। দেশের দুই পুরুষ অ্যাথলেট পারভেজ মিয়া ও ইমতিয়াজ হোসেনের জন্য মঙ্গলবারের দিনটি ছিল কান্নার। পারভেজ দেরিতে দৌড় শুরু করেন। আর ইমতিয়াজ ডিসকোয়ালিফাই হয়ে চোখ মুছতে মুছতে নাগোয়ার ট্র্যাক থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন।

এশিয়ান প্যারা গেমসের টেবিল টেনিসের খেলা আগেই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। তাই অন্য ইভেন্টে প্রত্যাশায় ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন দুই স্প্রিন্টার। টি ৪৭ বিভাগে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটে দাঁড়ান পারভেজ মিয়া। প্রথমবার স্টার্টিং পয়েন্টে দৌড় শুরুর আগ মুহূর্তে উপুড় হতে না পারায় হলুদ কার্ড দেখান বিচারক। পরে যখন স্টার্টআপ বেজে ওঠে, হলুদ কার্ড দেখে মন ভেঙে পড়ায় অন্যদের সঙ্গে দৌড় শুরু করতে এক সেকেন্ড দেরি করে ফেলেন পারভেজ। আর এতেই তার কপালে জুটেছে ছয়জনের মধ্যে পঞ্চম স্থান। পারভেজ নিজের খেলা সম্পর্কে বলেন, ‘আসলে প্রথমবার আমি হলুদ কার্ড পাওয়ার পর মন ভেঙে যায়। তাই দৌড় শুরু করতে যেন ফলস স্টার্টের শিকার না হই, তাই একটু দেরি হয়ে গেছে। ফলে পিছিয়ে পড়ি।’ অন্যদিকে দৌড়ই দিতে পারলেন না ইমতিয়াজ। দুই দুইবার ফলস স্টার্টের কারণে লালকার্ড দেখে ডিসকোয়ালিফাই করে দেওয়া হয় তাকে। নাগোয়ার ট্র্যাকে নেমেও খেলতে না পারায় চোখ মুছতে মুছতে বের হয়ে যান তিনি। ইমতিয়াজের কথা, ‘এক হাত না থাকায় আমি ব্যালান্স রাখতে পারছিলাম না। তাই বারবার এক দিকে ঝুঁকে যাচ্ছিলাম। এতেই দুবার হলুদ কার্ড দেখে ডিসকোয়ালিফাই হয়ে যাই। এতদূরে খেলতে এসে দৌড়াতেই পারলাম না।’ শিষ্যদের নিয়ে দলের কোচ আল আমিন বলেন, ‘ওরা অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু বড় আসরে এসে কিছুটা হলেও ভড়কে গেছে। পারভেজ দৌড়াতে পারলেও ইমতিয়াজ কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছিল একদিকে। এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য।’

হতাশ করেছেন এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে স্বর্ণজয়ী চৈতী রানী দেবও। শটপুটে খুব একটা ভালো করতে পারেননি তিনি। অন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের উচ্চতার সঙ্গে খুবই খর্বকায় ছিলেন তিনি। তাই খুব বেশি দূরত্বে গোলক নিক্ষেপ করতে পারেননি চৈতী। যদিও এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে এই ইভেন্টে খেলেননি তিনি। ছয় নম্বরে নিজের খেলা শেষ করেছেন। কোচ আল আমিন বলেন, ‘এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে চৈতীর জেতা স্বর্ণের দুটি ইভেন্টই নেই এশিয়ান প্যারা গেমসে। ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ও জ্যাভলিন থ্রো না থাকায় চৈতীকে আমরা শটপুট ও ডিসকাস থ্রোয়িংয়ে দুই মাসের অনুশীলন করিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। সে চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা পদক জেতার মতো হয়নি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত