শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ প্রায় ১ হাজার ৮৪১টি পূজামন্ডপ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)। পাশাপাশি পিকআপ ও মোটরসাইকেল টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি, কমান্ডো, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং ড্রোন টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের ৪১৮টি পূজামন্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে এসআরবি-১। পূজামন্ডপের ঝুঁঁকি ও গুরুত্ব বিবেচনায় স্বেচ্ছাসেবক, সিসি ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি, ডগ স্কোয়াড এবং মোটরসাইকেল ও পিকআপ টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন এসআরবি ১০ ও ১-এর অধিনায়করা।
দুপুরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘেœ উদযাপন নিশ্চিত করতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সর্বক্ষণিকভাবে ১৫টি পিকআপ প্যাট্রোল ও ২৮টি মোটরসাইকেল টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে সদস্যরা নজরদারি করছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর রাখা হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামন্ডপ-সংলগ্ন এলাকায় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে নৌটহলের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা শাখা স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন কর্মকা- প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং সেল সর্বক্ষণিক নজরদারি করছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের সহায়তায় পূজাম-পে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে জরুরি সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংস্থাটির সদস্যরা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। পূজাকে কেন্দ্র করে যানজট ও অতিরিক্ত জনসমাগম সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসআরবি-১০।
উত্তরার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে উত্তরা মীর মুগ্ধ মঞ্চ পূজামন্ডপে সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম খান বলেন, পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় প্রথম স্তরে এসআরবি-১ ও পূজা উদযাপন কমিটির নজরদারিতে স্বেচ্ছাসেবক এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ হিসেবে এসআরবি ডগ স্কোয়াড দায়িত্ব পালন করছে। তৃতীয় স্তরে মোটরসাইকেল ও পিকআপের মাধ্যমে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে এসআরবির সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক তদারকি করছে জানিয়ে অধিনায়ক বলেন, কোনো উগ্রবাদী, চরমপন্থি বা স্বার্থান্বেষী মহল যেন নাশকতা কিংবা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এসআরবি-১ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করব।