শতবর্ষী ‘গ্যাং হাট’ এখন ভুতুড়ে বাড়ি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ এএম

১৮৯১ সালে তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে বাংলার পূর্বদিকে রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করে। ১৮৯৬ সালে আখাউড়া-কুলাউড়া-শাহবাজপুর-মহিষাধন রেলপথের কাজ সম্পন্ন হয়। আর বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত রেলপথটি ১৯১৫ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃক নির্মাণ হলে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে রেল যোগাযোগ স্থাপন হয়। তৈরি হয় নতুন নতুন রেলপথ। সে সময়ে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত শুধুমাত্র পাহাড়ি অংশে জরুরি প্রয়োজনে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হয় অসংখ্য শ্রমিক। রেলওয়ের ভাষায় এসব শ্রমিকের নামকরণ হয় ‘ওয়েম্যান’। ওয়েম্যানদের বসবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলে রেললাইনের পাশেই রেলওয়ের ভূমিতে নির্মাণ করা হয় কিছু কোয়ার্টার। রেলওয়ের ভাষায় এই কোয়ার্টারগুলোর নাম ‘গ্যাং হাট’। এখনো বাংলাদেশ রেলওয়েতে ‘ওয়েম্যান’ পদ থাকলেও সেসব গ্যাং হাট খুব একটা চোখে পড়ে না। 

কোনো কোনো গ্যাং হাটের অস্তিত্বই এখন আর নেই। আখাউড়া-সিলেট রেল সেকশনের অনেকগুলো গ্যাং হাটের মধ্যে অন্যতম হলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে অবস্থিত গ্যাং হাট। এটি এখনো ভঙ্গুর জরাজীর্ণ অবস্থায় কোনোরকম দাঁড়িয়ে আছে। নেই কোনো দরজা-জানালা। খসে পড়েছে দেয়ালের অংশ। চারপাশে ঝোপঝাড়। আশপাশে কোনো বসতি নেই। তাই ওয়েম্যানদের কেউ আর সেখানে যাতায়াত করেন না। অনেকটা ভুতুড়ে বাড়িটি দিনের বেলায়ই পর্যটক ও সাধারণ মানুষের বুকে কাঁপন ধরায়।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখের গ্যাং হাটটির বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে আখাউড়া-কুলাউড়া-শাহবাজপুর-ভারতের মহিষাধন রেলপথের কাজ সম্পন্ন হয়। সে সময়ে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত স্টিম (কয়লা) ইঞ্জিনের স্বল্পগতির লোকাল যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করত। পাহাড়ি এলাকায় রেললাইনের ওপরে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস ছিল অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এছাড়া রেললাইন নষ্ট, লাইনের ক্লিপ খুলে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনায় দ্রুতগতিতে বা জরুরি প্রয়োজনে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তৎকালীন রেল কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত করে শ্রমিকদের। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা এই শ্রমিকদের বলা হয় ‘ওয়েম্যান’। ওই শ্রমিকদের পরিবারসহ বসবাসের জন্য সারা দেশে পাহাড়ি এলাকায় রেললাইনের পাশেই তৈরি করা হয় অসংখ্য ‘গ্যাং হাট’।

তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে রেললাইনের পাশের পাহাড় ধসসহ কোনো কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্টেশন এলাকা থেকে দ্রুতগতিতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে যাওয়া সহজতর হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ‘ওয়েম্যান’ পদ থাকলেও তাদের বসবাসের জন্য নেই কোয়ার্টার। কোনো কোনো গ্যাং হাটের অস্তিত্বই নেই। যেগুলো দাঁড়িয়ে আছে তাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায়। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে এবং পশ্চিম দিকে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের রশিদপুর স্টেশনের প্রবেশমুখে পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে ‘গ্যাং হাট’। এসব গ্যাং হাটে দীর্ঘদিন কেউ বসবাস করছেন না। এগুলো পুরোপুরি বসবাসের অনুপযোগী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত