বাঁশখালীতে ব্যবসায়ী অপহরণ: রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেমবাজার থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদস্য পরিচয়ে অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছানকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের হেফাজত থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান হাসানকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদরের বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার থেকে চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান হাসানকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন গোপালগঞ্জে কাশিয়ানী থানার চাকরিচ্যুত সাবেক সেনা সদস্য সুমন মুন্সি, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মিজানুর রহমান, উখিয়ার জয়নাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬ এর বাসিন্দা মো. ছলিম সেলিম ও কক্সবাজার সদরের দেলোয়ার হোসেন।

এসময় অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার, হ্যান্ডকাফ, পাঁচটি কালো রঙের এসআরবি কটি, দুটি ভুয়া এসআরবির পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি বলেন, অতীতে উখিয়া এলাকায় এসআরবিতে কর্মরত থাকার সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হয় তার। পরবর্তীতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তিনি চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন। কারাগার থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে একটি দল গড়ে তোলেন।

এ পর্যন্ত ভুয়া এসআরবি সদস্য পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় তার নামে ১৩ মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

১৭ অক্টোবর রাতে বাঁশখালীর পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে ‘মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ কালো পোশাকের ওপর এসআরবি লেখা কটি পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি ঢুকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পর ওই রাতে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। দাবিকৃত টাকা দিকে ব্যর্থ হলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. হোছাইন বাঁশখালী থানায় মামলা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত