দেশ ও জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর। তিনি বলেছেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আবু ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, ‘স্থানীয় সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মতো উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হলে ঠিকাদারকে যদি মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের চাঁদা দিয়ে কাজ করতে হয়, তাহলে সেই কাজ কখনো টেকসই ও ভালো হবে না। এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। আসুন, মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছি। এখন এলাকার উন্নয়ন করব। তবে আপনাদের কাছে আমার আরও একটি দাবি—মাদকমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এলাকার যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে হবে। সমাজ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর করতে না পারলে একটি জাতির উন্নতি সম্ভব নয়।’
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলায় উন্নয়নের জোয়ার বইবে। গত পাঁচ মাসে সরকারের বরাদ্দ করা অর্থে এসব উপজেলায় সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, মন্দির ও শ্মশানঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। বাকি উন্নয়নকাজও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জিয়নপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুস ছালাম।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুল্লাহ নোমানী এবং জেলা বিএনপির সাবেক নেতা প্রভাষক কামরুল হাসান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আতোয়ার রহমান, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি ও আক্তার হোসেন, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, জেলা যুবদলের নেতা নাসির উদ্দিন, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মমতাজ বেগম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী গোলাম সালাউদ্দিন সেলিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চকমিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুল হক খান সোহেল, উপজেলা যুবদলের ইমরান হোসেন সামান, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, জিয়নপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক এস এম সাইদুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিব খান অয়ন, জেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. অনিক হাসান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির এলিটসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।