মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে বাঁওড় ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর মাধ্যমে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ১৫টি উপজেলার ২৯টি বাওড়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যেখানে বাঁওড় খনন এবং মাছের উৎপাদন বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মৎস্য অধিদপ্তর ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে, যা এখন পরিকল্পনা কমিশনের রয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পটির প্রস্তাবিত মেয়াদ ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত ৫ বছর।
প্রকল্পের ব্যয় বিভাজনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে বাঁওড় খনন করে মাছের আবাসস্থল উন্নয়নে। এতে প্রস্তাবিত ব্যয় ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর মাধ্যমে সাড়ে পাঁচ লাখ ঘনমিটার বাঁওড় খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের দপ্তরের ৩৫টি পুকুর পুনঃখনন ও পাড় মেরামতে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং এসব পুকুরে অ্যারেটর, বিদ্যুৎ সংযোগ, সিসি ক্যামেরা ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে আরও ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, মাছের মজুদ বৃদ্ধিতে রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার টাকা। একইসঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দুই খাতে মোট ব্যয় ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে ৫৫ দশমিক ২৫ টন রুইজাতীয় মাছের পোনা এবং ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৫ হাজার দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ২৯টি অভয়াশ্রম স্থাপনে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে ছয়টি অফিস ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত ব্যয় ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বাঁওড়ের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কাম সমিতির ভবন, রাস্তা ও অন্য স্থাপনা মেরামতে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং আয়রন মেশ নেট স্থাপনে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ের সংস্থান রয়েছে।
মৎস্যজীবীদের দক্ষতা ও সংগঠন উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৩ হাজার ৮৭৫ জন মৎস্যজীবীকে ১৫৫ ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সুফলভোগী দল শক্তিশালীকরণ, সদস্যতালিকা হালনাগাদ, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনায় ৬৯ লাখ টাকা; বাঁওড়ভিত্তিক ২৯টি অগ্রগতি পর্যালোচনা সেমিনারে ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ মডিউল প্রস্তুতের কর্মশালায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য চালক, জ¦ালানি, লুব্রিকেন্ট ও টোলসহ পাঁচ বছর একটি জিপ ভাড়ায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৩টি নৌকা ক্রয়ে ৬৯ লাখ টাকা এবং জনসচেতনতা ও প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রকল্পের মূলধন ব্যয় ৩০ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ১৬ কোটি ৬৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রকল্প এলাকার বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক বলেছেন, প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে একাধিক সভা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের চারটি জেলার ২৯টি বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন এখনকার থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। যার বাণিজ্যিক মূল প্রায় হাজার কোটি টাকা।