নাগোয়ার রেইনবো পুল। অন্যদিনের তুলনায় কিছুটা ঠান্ডা এই নীল জলরাশি। এসবি৮ ক্যাটাগরির ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের সরাসরি ফাইনাল। দুই নম্বর লেনে দাঁড়িয়ে পুলে ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষায় পল্লব কর্মকার। হুইসেল। অতপর পুলে ঝাঁপ দিলেন পল্লব। কিন্তু ইভেন্টের সরাসরি ফাইনাল হলেও সেখানে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। ১ মিনিট ৪৭.৭৭ সেকেন্ডে সময় নিয়ে এই ইভেন্টে অংশ নেওয়া আটজনের মধ্যে অষ্টম হন পল্লব।
মূলত এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে মো. শহিদুল্লাহই ছিলেন সেরা। গত বছর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওই আসরে এস৬ ক্যাটাগরি ইভেন্টে ১২-১৬ বছর বয়সী ছেলেদের বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন শহিদুল্লাহ। এক পায়ে সাঁতরে লাল সবুজের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, একই গেমসের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ব্রোঞ্জও জিতেছিলেন। জানা গেছে, এবার সেই শহিদুল্লাহকে ওয়াইল্ড কার্ডই দেয়নি এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটি। ফলে নাগোয়াতে আসতে পারেননি তিনি। শহিদুল্লাহর ওয়াইল্ড কার্ড না পাওয়া প্রসঙ্গে কোচ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আসলে শহিদুল্লাহ এশিয়ান ইয়ুথ গেমসে খেলেছে জুনিয়রে। আর এটা হলো সিনিয়রদের খেলা। তাই শহিদুল্লাহ কার্ড পায়নি।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা যদি আগে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খেলতে পারতাম, তাহলে আরও কার্ড পেতে পারতাম।’
শহিদুল্লাহ আসতে না পারলেও ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে জাপানে আসেন এক পা’হীন পল্লব কর্মকার। কিন্তু চেষ্টা করেও তিনি অগ্রজ শহিদুল্লাহর পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারেননি। ২০ অক্টোবর রেইনবো পুলে প্রথমবার নামেন ২০ বছর বয়সী এই প্যারা সাঁতারু। এস৯ ৫০ মিটার ক্যাটাগরির ফ্রিস্টাইলের এক নম্বর হিটে দাঁড়িয়ে ৩১.৬৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাতজনের মধ্যে ষষ্ঠ হন। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ পল্লব কর্মকারও। তার কথা, ‘এটা স্বীকার করতেই হবে, আমি নিজের সেরাটা দিতে পারিনি। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু হয়নি। আশা করি ভবিষ্যতে ভুল শুধরে আরও ভালো করতে পারব।’
এ বিষয়ে দলের কোচ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এশিয়াডে পদকজয়ী সাঁতারুদের টাইমিং ডাউনলোড করেছি। একজন কোচ হিসেবে আমি জানি ওদের টাইমিং আর আমাদের টাইমিংয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। অন্য দেশের প্যারা সাঁতারুরাও শৈশব থেকে জুনিয়র এবং পরে সিনিয়রে খেলতে আসে। আর আমাদের সেই পাইপ লাইন তো নেই, বরং গেমসে আসার দুই মাস আগের অনুশীলনেই অংশ নিতে হয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘শ্রীলঙ্কার একটি মেয়ে সাঁতারে রৌপ্য পেয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, এই গেমসে পদক জেতার জন্য সে দুই বছর অনুশীলন করেছে। আর আমরা সিনিয়র, জুনিয়র কিছুই খেলতে পারিনি। কারণ আগে প্যারালিম্পিকের কোনো ফাউন্ডেশনই ছিল না আমাদের দেশে। যদিও এখন শুরু হয়েছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েরা আরও ভালো করবে।’