কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরের ঢেউ ও প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লোকজন মো. হারুন ও এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে বুধবারের দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন।
হারুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন সৈকত থেকে আর নিবিড়ের মরদেহ পাওয়া যায় কলাতলী ভাঙ্গার মুখ এলাকার সৈকতে। হারুন চট্টগ্রামের বায়েজিদের বাংলাবাজার শাসা কলোনি এলাকার কবির আহমদের ছেলে। আর ঢাকার উত্তরার আজমপুরের নাবিবুর রহমানের ছেলে নিবিড়। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজার হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নামে চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া পাঁচ জনের এবং ঢাকা থেকে যাওয়া সাতজনের দল। হঠাৎ চট্টগ্রামের রাকিব নামের একজনকে স্রোতের টানে ভেসে যেতে দেখে বাকিরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তাকে বাঁচানো সম্ভব হলেও এদিন দুই দলের তিনজন মারা যান। নিখোঁজ থাকেন দুইজন। গতকাল তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যুবকরা বলেছেন, হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতের যে পয়েন্টে তারা গোসলে নেমেছিলেন সেই এলাকায় জোয়ার-ভাটার পতাকা টাঙানো হয় না। ছিল না ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ-কর্মী। এমনকি সেখানে পাওয়া যায় না লাইফবয় কিংবা টিউব টায়ার। হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি কোনো সতর্ক ব্যবস্থা।
বিচ-কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন সৈকতের তীরে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে হিমছড়ি পুলিশকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওই ঘটনায় বুধবার উদ্ধার হওয়া নিহতরা হচ্ছেনÑ চট্টগ্রামের বায়োজিদ এলাকার আকাশ, ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির মুকাররম হোসেনের ছেলে বিইউপির বিবিএর শিক্ষার্থী আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ও আইইউটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইবুল হক জিসান।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুবক্তাগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বুধবার তিনজন ও বৃহস্পতিবার দুইজনের মরদেহ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা রাকিবের বন্ধু মো. সানি বলেন, আমরা সকালের ট্রেনে কক্সবাজার আসি। রাতেই ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। উঠেছিলাম স্বপ্ন বিলাস রিসোর্টে। এর সামনের সমুদ্রে আমরা গোসলে নামি। তবে কেউ কোমর পানির বেশি যাইনি। কিন্তু হঠাৎ রাকিব স্রোতের টানে দূরে চলে গেলে প্রথমে আমরা চেষ্টা করি। না পেরে পাশের আরেকটি গ্রুপের সহযোগিতা চাই । দুই দল মিলে রাকিবকে তীরে আনি। কিন্তু এরই মাঝে আমার দুই বন্ধু ও ওই দলের তিন বন্ধু পানিতে ডুবতে থাকে। এরপর আমরা তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমাদের বন্ধুর মরদেহ উদ্ধার হয়।
হিমছড়ির জাদুঘর পয়েন্টে নেই মনিটরিং : দুর্ঘটনয় বেঁচে ফেরা চট্টগ্রামের সানি বলেন. আমরা যেখানে গোসলে নেমেছিলাম সেখানে কোনো জোয়ার-ভাটা চিহ্নিতকরণ পতাকা, লাইফবয় কিংবা টিউব ছিল না। এমনকি আশপাশে কোনো বিচ-কর্মীও দেখিনি।
গোসলে নামার বিষয়ে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দেশনা দিয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে রিসোর্ট থেকে কাউকে দেওয়া হয়নি। কিংবা সুইমিং কস্টিউম অথবা, বয়া দেয়নি। শুধু বলেছিল কোমর পানির বেশি না নামতে। তাদের কথামতো আমরা কেউ কেউ কোমর পানির বেশি যাইনি। তবুও স্রোতের টানে মারা গেল পাঁচজন। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় দুটি রিসোর্টের গাফিলতি রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।