‘সৈয়দ আবুল মকসুদ মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন’

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

বহুমাত্রিক লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সৈয়দ আবুল মকসুদের সাধনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘সৈয়দ আবুল মকসুদ স্মৃতি সংসদ’র আয়োজনে এ আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। এতে লেখক, গবেষক, পরিবেশকর্মী, কবি, সাংবাদিক ও আইনজীবীরা তার জীবন, কর্ম ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ তথ্যের প্রামাণ্যতা নিশ্চিতে প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে অনুসন্ধান করতেন। তিনি মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন।

লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতি গঠন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জনগণের সংগ্রাম ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্ব নিয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ।’

পরিবেশকর্মী আবু নাসের বলেন, ‘সৈয়দ আবুল মকসুদ শুধু বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না, সমস্যার সমাধানের পথ নিয়েও ভাবতেন। নদী, যানজট, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পার্ক-মাঠ উদ্ধারের আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ধর্মান্ধতা ও রাজনৈতিক ধর্মবিশ্বাসের বিরোধী এই লেখক সরকার পরিবর্তনের চেয়ে ব্যবস্থা পরিবর্তনের চিন্তায় বিশ্বাসী ছিলেন।’

কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, ‘সৈয়দ আবুল মকসুদ মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। তার সামাজিক ভূমিকা ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হলেও তিনি কী লিখেছেন এবং কী রেখে গেছেন, তা পাঠ করা, ভাবা ও গবেষণা করা জরুরি। মওলানা ভাসানী, নবাব সলিমুল্লাহ, মহাত্মা গান্ধী থেকে খাইরুন নেসা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার গবেষণা ও চিন্তার জগৎ। সমাজে মুক্তির সন্ধানে প্রয়োজনীয় সাধনার কাজটিই তিনি করেছেন।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আরিফ খান বলেন, ‘সৈয়দ আবুল মকসুদ শুধু একজন কলামিস্ট ছিলেন না; নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সারা দেশ ঘুরেছেন। নিজের জীবন, পরিবার ও  পেশাগত জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। তার গবেষণাধর্মী ও প্রামাণ্য গ্রন্থগুলোও অসামান্য অবদান।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত