যুদ্ধ, বৈষম্য ও জলবায়ু সংকট: ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব গড়ার আহ্বান জাতিসংঘের

বর্তমান বিশ্ব সংঘাতে বিপর্যস্ত, জলবায়ু সংকটে ক্ষতবিক্ষত এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যে জর্জরিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, যার গতি এসব প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

যুদ্ধ ও সংঘাত, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং জলবায়ু সংকটে বিপর্যস্ত বিশ্বে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং ভয়ের পরিবর্তে সংহতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় গুতেরেস এসব আহ্বান জানান। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮১ বছর পূর্তিতে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার ওপরই মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

বার্তায় গুতেরেস বলেন, বর্তমান বিশ্ব সংঘাতে বিপর্যস্ত, জলবায়ু সংকটে ক্ষতবিক্ষত এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যে জর্জরিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, যার গতি এসব প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল মূল্যবোধগুলো নতুন করে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বের সব দেশের প্রতি অভিন্ন মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার প্রতি অঙ্গীকার নবায়নের আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস বলেন, এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা।

১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ভূমিকা রেখে আসছে উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, অস্ত্রের পরিবর্তে কূটনীতি ও আইনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং যুদ্ধ, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ।

শান্তি ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবহন, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, মানুষ ও পৃথিবীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠায়ও সংস্থাটির ভূমিকা রয়েছে। নারী ও মেয়েশিশুদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সব দেশের সমানভাবে মতামত তুলে ধরার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

গুতেরেসের বলেন, জাতিসংঘ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে সংস্থাটির প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

জাতিসংঘকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান গুতেরেস। এর মাধ্যমে সংস্থাটি যেন মানুষের আরও কার্যকর সেবা দিতে পারে এবং বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।

জাতিসংঘ দিবসের এই বার্তায় যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে কূটনীতি, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, বৈষম্য হ্রাস এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি কার্যকরভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতি জোরদার করাই মহাসচিবের মূল আহ্বান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত