শাহ আমানত বিমানবন্দরে মাটির নিচ থেকে ক্যাবল চুরি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর ভিওআর (ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ডিরেকশনাল রেঞ্জ) এলাকায় চুরি থামাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকার প্রধান ফটক জাপানি গেট থেকে ভিওআর অঞ্চলে যাওয়ার সড়কে স্থাপিত স্ট্রিট লাইটের প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া ক্যাবলের আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা।

গত দেড় মাসে রানওয়ে ও ভিওআর এলাকাসহ বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে রানওয়ের লাইট, লাইটিং ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও চুরি হয়েছে।

বিমানবন্দরের একটি সুত্র ক্যাবল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চুরি হওয়া ক্যাবল লাইনটি মাটির প্রায় তিন ফুট গভীরে স্থাপন করা ছিল। তবে সর্বশেষ চুরির বিষয়টি জানাজানি হয় শনিবার (২৪ অক্টোবর)।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর দেশ রূপান্তরে বিমানবন্দরে এক মাসে ৯টি চুরির ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দরের সীমানাসংলগ্ন নিজাম মার্কেট এলাকা থেকে চোরাই মালামালসহ মো. আজিজুর রহমান নামের এক যুবককে আটক করেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত প্রায় দেড় মাসে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও স্পর্শকাতর ভিওআর এলাকায় একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোর চক্র রাতের আঁধারে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ ক্যাবল, রানওয়ে লাইট, লাইটিং ট্রান্সফরমারসহ বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছে। এসব সরঞ্জাম চুরির কারণে উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) এলাকা হিসেবে বিবেচিত বিমানবন্দরটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) শাখাসহ অন্যান্য অপারেশনসংশ্লিষ্ট বিভাগও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।

এদিকে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচের আওতায় নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং তা বাস্তবায়নের কাঠামো পর্যালোচনা করবেন অডিটসংশ্লিষ্টরা।

এমন পরিস্থিতিতে আইকাওর নিরাপত্তা অডিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান ও মানোন্নয়নের অগ্রগতি কতটা সন্তোষজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত