৩৮ লাখ বই ছাপার পর বিতর্কে বাদ পড়ছে ‘দাঁড়িপাল্লা’

সমালোচনার পর ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা না রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকলেও সেখানে আর কোনো প্রতীক বা আইকন থাকবে না।

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

আগামী শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের পর সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে ৩৮ লাখ বই ছাপানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে ২০ লাখের বেশি বই ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়েপাঠানো হয়েছে। এমন অবস্থায় বইয়ের কোনো অংশে পরিবর্তন করতে হলে পুনরায় বাঁধাই করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর পাঠ্যপুস্তক সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, শনিবার এ বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই নির্দিষ্ট অংশ বাদ দেওয়ার। কোনো অংশে পরিবর্তন করতে হলে পুনরায় বই বাঁধাই করতে হবে এটা সত্য কিন্তু এই জন্য আমাদের বাড়তি কোনো টাকা খরচ হবে না। আমাদের চুক্তিতে উল্লেখ করা ছিল যারা বই ছাপানোর কাজ পাবেন কাজ শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো অংশে আংশিক বা সামান্য পরিবর্তন করতে হলে তারা বিনামূল্যে তা করে দিতে বাধ্য থাকবেন।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন থাকবে না। গত বৃহস্পতিবার থেকে এনসিটিবি নির্দেশে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রয়েছে। এই সূত্র জানায়, বইয়ের যে পৃষ্ঠায় পরিবর্তন আসবে সেখানে নতুন একটি পৃষ্ঠা বসিয়ে দিয়ে কাজ হয় কি না সে বিষয়েও ভাবনা চলছে। তাহলে বাড়তি খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে।

এদিকে বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) গবেষণা কর্মকর্তা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জুবায়েরকে খাগড়াছড়ি বদলি করা হয়েছে। তাকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে তাদের নামের পাশে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করা হলো। বর্ণিত কর্মকর্তারা আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত