ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চললেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন বাজারের হোটেলে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ডিমওয়ালা ইলিশ। প্রজনন মৌসুমে ইলিশের প্রজনন এলাকায় এমন বিক্রির ঘটনায় মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার মেঘনাপাড়ের ষাটনল, ছটাকি, মোহনপুর, চরকাশিম, এখলাপুর, আনন্দ ও আমিরাবাদ বাজারের ভাতের হোটেলগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ডিমওয়ালা ইলিশ ভাজা। স্থানীয় মানুষের কাছে ডিমবিহীন ইলিশের চেয়ে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরত্বে মেঘনাপাড়ের মোহনপুর বাজারে অবস্থিত উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। সপ্তাহের রবি ও সোমবার এখানে জমি নিবন্ধন করা হয়। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন নিবন্ধন কার্যক্রম চলায় এ দুই দিনে চার শতাধিক দলিল নিবন্ধন হয় বলে জানা গেছে। এতে প্রায় ৮০০ পক্ষের লোকজনের সমাগম ঘটে। জমি নিবন্ধন করতে আসা এসব মানুষের হাতে পর্যাপ্ত নগদ টাকাও থাকে।
এ কারণে রবিবার (২৫ অক্টোবর) নিবন্ধন অফিস খোলা থাকার দিনে মোহনপুর বাজারের ভাতের হোটেলগুলোতে প্রচুর ইলিশ ভাজা বিক্রি হতে দেখা গেছে।
আইন অমান্য করে স্থানীয় হাটবাজার কিংবা হোটেলে ইলিশ বিক্রি হতে দেখলে সচেতন নাগরিকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা জরুরি। তবে মেঘনাপাড়ের কয়েকজন স্কুলশিক্ষক জানান, স্থানীয় লোকজন তথ্য দেওয়াকে ঝামেলা ও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করায় এ বিষয়ে তথ্য দিতে চান না।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ইলিশের প্রজননের জন্য সরকার নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে স্থানীয় হাটবাজার, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অবাধে ইলিশ বিক্রি দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। এ সময়ে ইলিশের প্রজনন এলাকায় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে জানান, মাছ ধরা নিষিদ্ধ এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্য ইলিশ পরিবেশন করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মা ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির স্বার্থে স্থানীয় সচেতন মানুষদেরও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখা উচিত।