নারীর সুস্থতার পথে নীরব হুমকি হয়ে উঠতে পারে জরায়ুমুখের ক্যানসার। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অথচ অসচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা না করানো এবং লক্ষণ অবহেলার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। তাই এ ক্যানসার প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা।
কাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
সাধারণত অধিক বয়স্ক মহিলাদের, বিশেষত মেনোপজের পরে এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া স্থূলকায়, ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনের রোগী, যাদের বাচ্চা নেই বা বাচ্চার সংখ্যা কম, যারা হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন এবং যাদের পরিবারে জরায়ু ক্যানসার, কোলন ক্যানসারের রোগী আছে জেনেটিক মিউটেশনের কারণে তাদেরও ঝুঁকি বেশি।
লক্ষণসমূহ
১. মাসিকের রাস্তা দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত
২. মেনোপজের পর রক্তস্রাব
৩. অনিয়মিত মাসিক
৪. নারীর ৪৫ বছর বয়সের পর মাসিকের সময় বেশি রক্তপাত হওয়া ইত্যাদি।
রোগ শনাক্তকরণ
ওপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলোর কোনো একটি দেখা দিলে একজন গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসক এক্ষেত্রে সাধারণত রোগীকে পরীক্ষা করে দেখে প্রয়োজনে বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করে থাকেন। ক্যানসার ধরা পড়লে সেটা কতদূর ছড়িয়েছে তা বোঝার জন্য আরও কিছু অ্যাডভান্সড টেস্ট
করতে হয়।
চিকিৎসা
সার্জারি বা অপারেশনই হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের মূল চিকিৎসা। এছাড়া কোনো কোনো রোগীর রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপিও লাগতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো আয়ু লাভ করতে পারে। আর সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ।
প্রতিরোধব্যবস্থা
কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দেওয়া। অধিক সন্তান ধারণা করা। ধূমপান না করা। যৌন-প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একাধিক যৌনসঙ্গী না রাখা। ৯ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধক টিকা গ্রহণ করা। ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত নারীদের প্রতি ৩ বছর পরপর ভায়া টেস্ট করা।