আট মাস বিদ্যুৎহীন ফরিদপুরে দেড় হাজার পরিবার

দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। 

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় আট মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মানুষ।

দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু প্রায় আট মাস আগে ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থা কিংবা নতুন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ বলেন, আট মাস ধরে আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। গরমেও কষ্ট করতে হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানাই।

একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ আট মাস ধরে এভাবে চলতে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।

দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার মানুষ। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রুত নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় নদীর তলদেশে ক্যাবল সংযোগ স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপন করা সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ক্যাবলটিতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত