 পুলিশের যানবাহন

গতিশীল দক্ষ সেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন 

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম

নাগরিক সেবায় বাংলাদেশ পুলিশ রাজধানী, বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চল পর্যন্ত দিন-রাত বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের নিরাপত্তাসহ জরুরি প্রয়োজনে সবার আগে পুলিশের দ্রুত সাড়া দেওয়ার কথা; অনেক ক্ষেত্রে যেতে হয়। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী বাহিনীটির সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও সাজসরঞ্জাম প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকদিন ধরে পুলিশের অতি প্রয়োজনীয় পরিবহন ও সাজসরঞ্জাম যথেষ্ট পরিমাণে না থাকার বিষয়টি কমবেশি সবার জানা।  

আগামী বছরের শুরু থেকে সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি এসব নির্বাচনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে পুলিশ সদস্যদের চলাচলও বেশ বাড়বে। আমরা মনে করি, পুলিশের প্রয়োজন বুঝে সে অনুযায়ী পরিবহন ও অন্য সাজসরঞ্জামের চাহিদা যতটা সম্ভব দ্রুত মেটানো প্রয়োজন।     

দেশ রূপান্তরে সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের ৬৪ শতাংশ যানবাহন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। এতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও জরুরি সাড়াদানসহ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুধু টহল দেওয়া, অপরাধী শনাক্ত ও মামলা তদন্তে পুলিশের কাজ সীমিত নয়। যেকোনো সময় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, আসামি গ্রেপ্তার, আলামত সংগ্রহ, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার, জনসমাগত নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাসহ  বৈচিত্র্যময় দায়িত্ব পালন করতে হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যানবাহন সংকটের কারণে বর্তমানে ১০ থেকে ২০ বছরের পুরনো বহু গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। জরুরি অভিযানে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় অনেক জরাজীর্ণ গাড়ি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বাহিনীর ১ হাজার ৭৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৪৫৫টি গাড়ি পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানায় ১ হাজার ২৩৭টি গাড়ি সচল রয়েছে। অর্থাৎ, থানাপ্রতি অন্তত ৪/৫টি গাড়ি যেখানে প্রয়োজন, সেখানে আছে গড়ে দুটিরও কম। আর এসব গাড়ির ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের পুরনো, যা অনেক সময় পথে বিকল হয়ে যায়। এতে নিয়মিত টহল, জরুরি সাড়াদানসহ আইনশৃঙ্খলার রক্ষার অতি প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। এর বাইরে ২৪টি রেলওয়ে থানা এবং ৭৪টি হাইওয়ে থানাও আছে। প্রতিটি থানায়ই পুলিশকে বড় এলাকাজুড়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

পুলিশ গতিশীলতা বাড়াতে ৫ হাজার ৮৩০টি নতুন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন কেনার প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছে। এতে খরচ মেটাতে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু সাধারণ পিকআপ নয়, ক্রাইম সিন ভ্যান, দাঙ্গা দমনের গাড়ি, অল-টেরেইন ভেহিকল, বিশেষায়িত প্যাট্রল কার, দুর্গম ও নৌপ্রধান এলাকার জন্য দ্রুতগতির স্পিডবোট ও রেসকিউ বোট, প্রিজন ভ্যান, উদ্ধারকারী নৌকা, মোবাইল কমান্ড সেন্টার, উচ্চগতির মোটরসাইকেল, পাহাড়ি এলাকার উপযোগী মোটরসাইকেল, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের উপযোগী বিশেষায়িত যানবাহন, মোবাইল সার্ভিল্যান্স গাড়ি, মৃতদেহ পরিবহনের ফ্রিজার ভ্যান, বাস, মিনিবাস, ঘোড়া পরিবহনের গাড়ি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার কথা বলা হচ্ছে। নতুন যানবাহন কেনার পাশাপাশি সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ১ হাজার ৯৬০ জন সদস্যকে হালকা ও ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

আমরা মনে করি, যানবাহনের অভাবে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পুলিশের কাছ থেকে মানসম্পন্ন সেবা দ্রুত পেতে হলে যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের দিতে হবে; এ বিষয়ে কারও দ্বিমত করার কথা নয়। যে ধরনের যানবাহন পুলিশের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে, তার একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা বিবেচনায় রেখে দ্রুত যতটা সম্ভব পুলিশের প্রয়োজন মেটাতে সরকার ব্যবস্থা নেবে, আমরা এ প্রত্যাশা করি। এক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক সেবায় দক্ষতা বাড়াতে পুলিশের যতœবান হওয়াও সময়ের দাবি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত