সহায়তার দ্বিগুণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা পেয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে। গতকাল সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধির এ চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যমতে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৫১ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ১৬ হাজার ৬৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বিপরীতে এ সময়ে বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৬৬২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। ফলে বৈদেশিক সম্পদের নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৫১ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট ঋণ পরিশোধের মধ্যে আসল বাবদ দেওয়া হয়েছে ৮৫৮ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১৬ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সুদ বাবদ ৪৬২ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলারে।

এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ৬৬২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৪৮ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪৮৬ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছাড় করা বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে ঋণ হিসেবে এসেছে ৫৪১ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ১১০ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া অর্থের দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় হয়েছে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে।

অন্যদিকে, নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ১ হাজার ২৭৩ দশমিক ০৩ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১০ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১ হাজার ১৪৭ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ১২৫ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত