পয়েন্টের নিলামেও টাকার ঝলকানি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

নিলামের টেবিলে শুরুতেই ঝড় তোলে ফরচুন। সেটা দেখে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল, ‘তারা শুরুতেই এত পয়েন্ট খরচ করছে। পরে হিসাব মেলাবে কীভাবে!’ যদিও গতকাল ডি থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম থেকে নির্ধারিত ২২ জন ক্রিকেটারকেই দলে নিয়েছে তারা। তবে নিলাম শেষে আক্ষেপ ঝরে ফরচুনের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাবিবুল বাশারের কণ্ঠে, ‘আমাদের বোলিং বিভাগ কিছুটা দুর্বল হয়ে গেছে। বিশেষ করে অফ স্পিনার নিতে পারিনি। শুরুতে বেশি পয়েন্ট খরচ হয়ে গেছে।’

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেটকে একই কাঠামোয় এনে আয়োজন করা হচ্ছে ডমেস্টিক থ্রি বা ডি থ্রি টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতাটিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আবহ দিতে গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় খেলোয়াড় নিলাম। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নির্ধারণে সরাসরি অর্থের বদলে পয়েন্ট ব্যবহার করা হলেও নিলামে রোমাঞ্চে কমতি ছিল না। সেখানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা ১৭ জন তারকা ক্রিকেটার মধ্যে ৪ জনকে দলে নেয় ফরচুন। এতে নির্ধারিত ১০ কোটি পয়েন্টের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ খরচ করে ফেলে তারা।

তানজিদ হাসান তামিম (২ কোটি), নাজমুল হোসেন শান্তর (১ কোটি ৫৫ লাখ) জন্য ফরচুন মোটা অঙ্কের পয়েন্ট খরচ করলেও এই নিলামে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান ক্রিকেটার হয়েছেন শরিফুল ইসলাম। বাঁ হাতি এই পেসারকে ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে ডি থ্রি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হয়েছেন তিনি। তার পরেই রয়েছেন জাতীয় দলের আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারকে ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ওয়ালটন।

উচ্চ দর পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন সাইফ হাসান ও হাসান মাহমুদও। দুজনকেই ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে যথাক্রমে সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ব্লুুস্টার। সাদা বলের অধিনায়ক লিটন দাসকে ১ কোটি ৫০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। এ ছাড়া সাব্বির রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ রুবেল ও শেখ মেহেদী হাসানের মতো ক্রিকেটারদের নিয়েও দলগুলোর মধ্যে কাড়াকাড়ি দেখা গেছে। নিলামে নাম ছিল ২৭৫ ক্রিকেটারের, দল পেয়েছেন ১৩২ জন।

তবে সবার জন্য নিলাম সমান সুযোগ বয়ে আনেনি। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার নাসির হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দল পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু জায়েদ রাহী, তানবীর হায়দার, আশিকুর রহমান শিবলী, ফরহাদ রেজা, প্রীতম কুমার ও আলাউদ্দিন বাবুর মতো পরিচিত মুখ। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকায় পেসার তানজিম হাসান সাকিবের নাম নিলামে তোলা হয়নি।

নিলামে তারকাখ্যাতির বিচারে এগিয়ে রয়েছে ফরচুনই। দলটি জাতীয় দলের আদলে শক্তিশালী স্কোয়াড সাজিয়েছে। তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে একই দলে রয়েছেন সৌম্য সরকার, শান্ত, তানজিদ, সাব্বির, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানভীর ইসলাম, আকবর আলী, এবাদত হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা। তবে ওয়ালটন, ব্লুস্টার, সেভেন রিংস সিমেন্ট, সিটিজেন ব্যাংকও নিজেদের দল নিয়ে খুশি।

নিলামে ‘ই’ ক্যাটাগরি থেকে একাধিক তরুণ ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে অফ স্পিনার লিয়ন ইসলামকে নিয়ে টানাটানি হয় দলগুলোর মধ্যে। ৫ লাখ পয়েন্টের ক্যাটাগরিতে থাকা লিয়নকে শেষ পর্যন্ত ৪৩ লাখ পয়েন্ট দিয়ে দলে টানে সিটিজেন ব্যাংক।

এবারের নিলামের বিশেষত্ব ছিল পয়েন্টভিত্তিক দল গঠনের পদ্ধতি। ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিটির জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ কোটি পয়েন্ট। এই সীমার মধ্যে আইকন ক্রিকেটারসহ ২৩ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করতে হয়েছে প্রতিটি দলকে। আগে থেকেই লটারির মাধ্যমে ছয়টি দলের আইকন ক্রিকেটার নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওয়ালটনের মেহেদী হাসান মিরাজ, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম, ফরচুনের তাওহীদ হৃদয়, একমির মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ব্লুস্টারের নুরুল হাসান সোহান এবং সিটিজেনস ব্যাংকের নাইম শেখ পেয়েছেন সেই দায়িত্ব।

নিলামে পয়েন্টের অঙ্ক বড় হলেও এর সঙ্গে ক্রিকেটারদের প্রকৃত পারিশ্রমিকের কোনো সম্পর্ক নেই। নিয়ম অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি ৮০ হাজার টাকা, ওয়ানডেতে ১ লাখ এবং চার দিনের ম্যাচে দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিলামের পয়েন্ট মূলত দল গঠনের হিসাব ও প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের মতো ক্রিকেটারদের বিগ ব্যাশে খেলার সূচি থাকায় ডি থ্রির সব ম্যাচে তাদের পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম মূল্য পেয়েছেন তারা। মোস্তাফিজকে ৭০ লাখ পয়েন্টে সেভেন রিংস সিমেন্ট দলে নিয়েছে। রিশাদকে ৬০ লাখ পয়েন্টে নিয়েছে ফরচুন।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর ডি থ্রি টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি পর্ব শুরু হওয়ার কথা। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে একমি ও ফরচুন। বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্লে-অফ ও ফাইনাল। ৩১ ডিসেম্বর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হবে টি-টোয়েন্টি পর্ব।

নিলাম শেষে ৬ দল

ফরচুন গ্রুপ : তাওদীদ হৃদয় (আইকন), রিশাদ হোসেন, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, তানভির ইসলাম, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, মুশফিক হাসান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আকবর আলি, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এনামুল হক আশিক, স্বাধীন ইসলাম, শামিম মিয়া, নুহায়েল সানদিদ, মোহাম্মদ হোসাইন, নিলয় রঞ্জন শীল, সৈকত আলী, হাফিজুর রহমান ও ইসলামুল আহসান আবির।

ওয়ালটন : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মুমিনুল হক, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, মার্শাল আইয়ুব, নাসুম আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, রনি তালুকদার, ইকবাল হোসেন ইমন, নাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, রেজাউর রহমান রাজা, জিয়াউর রহমান, হাবিবুর রহমান সোহান, সামিউন বশির, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, এসএম মেহেরব, ইমরানুজ্জামান, আসাদুজ্জামান পায়েল, নাঈম আহমেদ, রবিউল হাসান অনিক, রবিউল ইসলাম রবি এবং রাকিব হাওলাদার।

সিটিজেনস ব্যাংক : মোহাম্মদ নাইম শেখ (আইকন), সাইফ হাসান, জাকের আলী, শরিফুল ইসলাম, হাসান মুরাদ, ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি, সুমন খান, আজিজুল হাকিম তামিম, জিসান আলম, তাইবুর রহমান পারভেজ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শুভাগত হোম, শফিকুল ইসলাম, ইরফান শুক্কুর, তোফায়েল হাসান, আল ফাহাদ, মইন খান, আরিফ আহমেদ, লিওন ইসলাম, আশিকুজ্জামান, আব্দুল্লাহ আল মুহি, ইকবাল হোসেন ইমন, অনিক দেববর্মা ও হুমায়ন আহমেদ।

সেভেন রিংস সিমেন্ট : মুশফিকুর রহিম (আইকন), তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, সাদমান ইসলাম, জাকির হাসান, শামীম হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ ইফরান হোসেন, শেখ পারভেজ জীবন, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, আনিসুল ইসলাম ইমন, আনামুল হক, দেবাশিস সরকার, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, রাফিউজ্জামান রাফি, রিজান হোসেন, রায়ান রাফসান রহমান, তাফসির আরাফাত তাসিব, ফারহান সাদিক ও আব্দুল্লাহ আল মুমিন।

ব্লু স্টার : নুরুল হাসান সোহান (আইকন), শেখ মেহেদি হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, এনামুল হক, আফিফ হোসেন, মাহমুদুল হাসান জয়, ইফতিখার হোসেন ইফতি, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আবু হাশিম, আবু হায়দার রনি, সাদিকুর রহমান, কালাম সিদ্দিকি, সফর আলি, ইয়াসিন হোসেন, রহিম আহমেদ, এনামুল হক এনাম, আজিজুল হাকিম রনি, আব্দুর রহিম, আদিল বিন সিদ্দিক ও শাহাদাত রহমান।

একমি গ্রুপ : মোসাদ্দেক হোসেন (আইকন), আব্দুল গাফফার সাকলাইন, নাঈম হাসান, আলিস আল ইসলাম, মোহাম্মদ রুবেল, অমিত হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, শাহাদাত হোসেন, রকিবুল হাসান, রিপন মণ্ডল, মুকিদুল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ, খালিদ হাসান, জাওয়াদ আবরার, মারুফ মৃধা, ইয়াসিন মিয়া, মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান, সাব্বির হোসেন, রুয়েল মিয়া, আহরার আমিন, আল আমিন রনি ও অনিক সরকার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত