ফুটবল বিশ্বের তারকাখচিত এক জমকালো সন্ধ্যার সাক্ষী হলো লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটার। ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর এই আয়োজনে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাদের ছাপিয়ে আবারও চমক দেখালেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠ মাতানো ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অনূর্ধ্ব-২১ বিভাগের সেরা তরুণ ফুটবলার হিসেবে জিতে নিয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘কোম্পা ট্রফি’।
এর মাধ্যমেই বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে অনন্যসাধারণ রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন এই তরুণ তুর্কি।
গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে লা লিগা, কোপা দে লের পাশাপাশি স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতানোর নেপথ্যে প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন ইয়ামাল। শুধু ক্লাব ফুটবলই নয়, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণগুলোতেও তরুণ এই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় চোখধাঁধানো। পুরো মৌসুমে ৫৭ ম্যাচে মাঠে নেমে ২৫টি গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করে নিজের নামের প্রতি পুরোপুরি সুবিচার করেছেন তিনি।
তবে এত বড় সাফল্যের পরও জানিয়েছেন সতীর্থের প্রতি সহমর্মিতা। লন্ডনের সেই বর্ণাঢ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুরস্কার গ্রহণ করার সময় সতীর্থ ও বন্ধু পাউ কুবারসি প্রতি নিজের উদারতার অনন্য নিদর্শন রাখলেন ইয়ামাল। ট্রফি হাতে নিয়ে বিনীত সুরে ইয়ামাল বলেন, ‘এই পুরস্কারটি পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। তবে আমি চেয়েছিলাম (পাউ) কুবারসি এখানে দাঁড়াক; এই ট্রফিটি ওরই প্রাপ্য ছিল। ও দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলছে।’
উনাই সিমনের রাজত্ব
তরুণদের দ্যুতির পাশাপাশি গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞতার দ্যুতি ছড়িয়ে বর্ষসেরা গোলরক্ষকের মর্যাদাপূর্ণ ‘লেভ ইয়াশিন ট্রফি’ নিজের করে নিয়েছেন স্পেনের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক উনাই সিমন। থিবো কোর্তোয়া ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের পেছনে ফেলে তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো সিমন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছিলেন। এছাড়া আথলেতিক বিলবাওয়ের জার্সিতে গত মৌসুমে ৬২ ম্যাচ খেলে ২২টিতে জাল অক্ষত রেখে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা এই গোলরক্ষক বড় পুরস্কারের মঞ্চে এসে নিজের নাম সোনায় বাঁধিয়ে নিলেন।
বর্ষসেরা কোচ দে লা ফুয়েন্তে
ফুটবলের ট্যাকটিক্যাল মস্তিষ্কের লড়াইয়ে সেরার মুকুট পরেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মিকেল আর্তেতা ও লুইস এনরিকের মতো হাইপ্রোফাইল কোচদের পেছনে ফেলে তিনি জিতে নিয়েছেন সম্মানজনক ‘ইয়োহান ক্রুইফ ট্রফি’। গত জুলাইয়ে সমাপ্ত উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে তার নিখুঁত ছক ও দুর্দান্ত কোচিংয়েই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে মাত্র ১টি গোল হজম করা এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে না দেওয়ার দুর্দান্ত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬৫ বছর বয়সি এই স্প্যানিশ কোচের হাতেই ওঠে বর্ষসেরা কোচের ট্রফি।
বর্ষসেরা পুরুষ ক্লাব পিএসজি
ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে দলীয় পারফরম্যান্সের বিচারে গত মৌসুমের সেরা পুরুষ ক্লাবের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, লিগ ওয়ান-র শিরোপা এবং ঘরোয়া ও মহাদেশীয় আসর মিলিয়ে মোট পাঁচটি ট্রফি জিতে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে ক্লাবটি। লন্ডনের সেই বিখ্যাত মঞ্চে পিএসজির প্রতিনিধি হিসেবে এই সুদৃশ্য ট্রফিটি গ্রহণ করেন দলটির তারকা ফরোয়ার্ড ও গত বছরের ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে।
একনজরে ব্যালন ডি’অর ২০২৬ বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা:
- ছেলেদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
- মেয়েদের ব্যালন ডি’অর: অ্যালেক্সিস পুতেয়াস (স্পেন ও লন্ডন সিটি লায়নেস)
- ছেলেদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়: লামিন ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা)
- মেয়েদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়: ভিকি লোপেজ (স্পেন ও বার্সেলোনা)
- ছেলেদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: উনাই সিমোন (স্পেন)
- মেয়েদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: কাতা কোল (বার্সেলোনা)
- ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
- মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচ: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
- সক্রেটিস পুরস্কার: বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড ও আর্সেনাল)
- ছেলেদের সেরা ক্লাব: পিএসজি
- মেয়েদের সেরা ক্লাব: বার্সেলোনা
- ছেলেদের সেরা স্ট্রাইকার: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
- মেয়েদের সেরা স্ট্রাইকার: শার্লিন কোররাল (মেক্সিকো ও পাচুয়া)
মেসি-ইয়ামালদের পেছনে ফেলে হ্যারি কেইন জিতলেন ব্যালন ডি'অর