গোল করা বা গোলের সুযোগ তৈরি, মাঠের ফুটবলে একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে বুকায়ো সাকার কাজ তো এগুলোই। তবে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে আর্সেনাল ও ইংলিশ উইঙ্গার নিজেকে মেলে ধরলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অর্জনের আলোয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘সক্রেটিস পুরস্কার’ নিজের করে নিয়েছেন সাকা।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে জার্মানির দাতব্য সংস্থা ‘বিগশু’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইজেরিয়া ও আফ্রিকা জুড়ে শিশুদের অস্ত্রোপচার, কিংবা তুরস্ক ও মরক্কোর ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জরুরি বাসস্থানের ব্যবস্থা করার মতো অসাধারণ কাজের জন্য সাকাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
বিশেষ করে সাকার বাবা-মায়ের জন্মভূমি নাইজেরিয়ায় হার্নিয়া ও ব্রেইন টিউমারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত ১২০ জনেরও বেশি শিশুর জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে সাকার উদ্যোগ। বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক সংস্থা ফিফা ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী ও ‘পিস অ্যান্ড স্পোর্ট’ সংস্থার যৌথ পরিচালনায় ২০২২ সাল থেকে প্রবর্তিত এই ট্রফিটি এর আগে সাদিও মানে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জেনি এরমোসো এবং লুইস এনরিকের ‘শানা’ ফাউন্ডেশন লাভ করেছিল। এবার সেই মানবিকতার ঐতিহ্যবাহী মিছিলে যুক্ত হলো সাকার নাম।
পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগপ্লুত কণ্ঠে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে এক ১৪ বছর বয়সী রুয়ান্ডান কিশোর বিরিনগিরোর হৃদয়স্পর্শী চিঠি পড়ে শোনান বুকায়ো সাকা। যার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল সাকার দাতব্য সংস্থা।
সেই কিশোরের চিঠিটি পড়ে শোনানোর সময় সাকা বলেন, ‘১২ বছর বয়সে আমি দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করি। আমাদের গ্রামে কোনো বিদ্যুৎ ছিল না, আর দৃষ্টিশক্তি যত কমছিল, ঘরের মধ্যে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে উঠছিল। এরপর ‘বিগশু’-এর কল্যাণে আমি প্রয়োজনীয় চোখের চিকিৎসা পাই। আজ আমি ক্লাসরুমের শেষ বেঞ্চে বসেও ব্ল্যাকবোর্ড দেখতে পারি। আমি আবারও শৈশব উপভোগ করতে পারছি। দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে শিহরিত। আমি একদিন ইংরেজির শিক্ষক হতে চাই।’
চিঠিটি শেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর অনুভূতি ব্যক্ত করে সাকা বলেন, ‘আমরা সবাই জানি ছোটবেলায় পায়ে বল থাকার অনুভূতি কেমন এবং তা কতখানি আনন্দ দেয়। যখনই আমি কোনো শিশুকে সেই অনুভূতি ফেরানোর সুযোগ পাই, সেটা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানে উপস্থিত থাকা এবং এই পুরস্কার গ্রহণ করা আমার জন্য পরম সম্মানের। যেসব শিশুদের আমরা সাহায্য করতে পেরেছি, তাদের সবার পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
বিশ্বকাপে বর্ণবাদী মন্তব্যের প্রতিবাদে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড