কক্সবাজারের টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসী রিদুয়ান বাহিনীর অন্যতম সদস্য ও কথিত ডাকাত আব্দুর রহিমকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া জুম্মাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আব্দুর রহিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।
আটক আব্দুর রহিম বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. তৈয়ুবের ছেলে।
পুলিশ জানায়, বাহারছড়ার উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী ও ডাকাত চক্রের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, রিদুয়ান বাহিনীর অন্যতম সদস্য আব্দুর রহিম জুম্মা পাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন। সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আবু সাইদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আব্দুর রহিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আটক করে।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আবু সাইদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি টেকনাফের বাহারছড়ার পাহাড়ি সন্ত্রাসী রিদুয়ান বাহিনীর অন্যতম সদস্য আব্দুর রহিম জুম্মাপাড়া এলাকায় অবস্থান করছে। পরে আমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে।
তিনি আরও বলেন, আটক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে তাকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, টেকনাফের উপকূলীয় এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী, ডাকাত ও মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাহারছড়ার উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মানব পাচারের অভিযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় বাহারছড়ার পাহাড়ি এলাকায় রিদুয়ান, মোর্শেদসহ যেসব সন্ত্রাসী ও ডাকাত চক্রের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা গেলে এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে জীবিকার তাগিদে পাহাড়ে যাতায়াতকারী মানুষও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
আটক আব্দুর রহিমকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।