সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদ আন্দোলনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ। রবিবারের (২৫ অক্টোবর) এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে, যা বলকান অঞ্চলের দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করতে পারে।
জনতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী নেতা ভুচিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন।
তবে ২০২৪ সালে দেশটির নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন ভুচিচ।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, 'এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরেছি। স্টুডেন্ট লিস্ট জয়ী হয়েছে।'
তাঁর এই ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। গাড়ির হর্ন, নাচ-গান আর শিক্ষার্থীদের 'বিজয়' ও 'তার খেলা শেষ' স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানী।
প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশ সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের এই বিজয়কে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের পর সার্বিয়ার এই ফলাফল ইউরোপের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার নিম্নমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাব নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নেমেছেন। সার্বিয়ার আন্দোলনের সাফল্য এসব আন্দোলনের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ভুচিচ জানিয়েছেন, ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে শিক্ষার্থীদের সমর্থিত ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পেতে পারে ১০৫টি আসন।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই সার্বিয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এমনকি বেলগ্রেডে ভোট দিতে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে ভুচিচকেও।
নির্বাচনী জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তবে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এবং শিক্ষার্থীদের ঘোষিত অভ্যন্তরীণ নীতিগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব কারা নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।