রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণা মাঠে (পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ) নতুন সচিবালয় স্থাপনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শুরু করা ‘সয়েল টেস্টিং’ (মাটি পরীক্ষা) এবং প্রস্তাবিত 'এশিয়া বাণিজ্য মেলার সকল কার্যক্রম আটকে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সয়েল টেস্টিংয়ে ব্যবহৃত যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতিবাহী যান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মাঠে প্রবেশ করায় তা প্রতিহত করে শিক্ষার্থীরা সেগুলোকে নিজেদের ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে যায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া এই গবেষণা মাঠে কোনো প্রকার বহিরাগত কার্যক্রম বা নির্মাণকাজ চালাতে দেওয়া হবে না বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বেলা ১১টায় গবেষণা মাঠের জমি শেকৃবির নামে স্থায়ীভাবে উদ্ধার ও প্রতিরক্ষার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে আগামী ৩ (তিন) দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেকৃবির নিজস্ব গবেষণা মাঠ হিসেবে ঘোষণা এবং জমি সুরক্ষায় হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে রিট পিটিশন (আইনি পদক্ষেপ) দায়েরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, সরকার ১৬ই ডিসেম্বর উক্ত মাঠে সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের প্রাণকেন্দ্রে এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ নষ্ট করে সচিবালয় নির্মাণের মতো সিদ্ধান্ত পরিবেশগতভাবে চরম অপরিণামদর্শী এবং শেকৃবির শিক্ষা-গবেষণার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
এছাড়া নিজ অধিকার আদায়ের দাবিতে মাস্টার্সের সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, অনেক দিন থেকে আমরা বিষয়টা বুঝানোর চেষ্টা করতেছি। মানববন্ধন করেছি, সরকারকে স্মারকলিপি দিছি কিন্তু আমাদের দুর্বল ভাবা হচ্ছে। প্রায় ৩শত একর জমি ছিল আমাদের, সরকার নিতে নিতে আজ ছোট্ট জায়গায় সীমিত করে ফেলেছে, গবেষণার প্রশ্নে আর কোন ছাড় নয়।
ফেল করেও একাদশে ভর্তি হতে চান শিক্ষার্থীরা