রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সেই কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এ জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর একই আদালত কিশোরের জামিন আবেদন নাকচ করেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বরও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
জামিন আবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় ওই কিশোর গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন। হর্ন বাজানো সত্ত্বেও তিনি দ্রুত সরে যেতে না পারায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ওই দিন আইনের সংঘাতে জড়িত শিশুটিকে আদালতে হাজির করে তাকে আটক রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কারের চালকের আসনের পাশের দরজা খুলে অভিযুক্ত কিশোর বের হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর থেকেই ওই কিশোর আটক ছিল।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গত ২৩ সেপ্টেম্বর গাড়িটির চালক আকাশের নাম উল্লেখ করে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন।