গ্রাহকের আস্থা ও নিরাপত্তাই ইউসিবির লক্ষ্য

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৬ এএম

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের আগ্রহ বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি। ব্যাংকটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইউসিবি ওয়ান’-এর মাধ্যমে হিসাব খোলা, অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে গ্রাহকসেবা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংকটির। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের চ্যালেঞ্জ, সাইবার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন ইউসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ কেমন? এ ক্ষেত্রে ইউসিবির অবস্থান কী?

আব্দুল্লাহ আল মামুন : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে। দ্রুত, সহজ ও সুবিধাজনক সেবা পাওয়ার চাহিদা এ পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। গ্রাহকরা এখন শাখায় না গিয়েই হিসাব খোলা, অর্থ স্থানান্তর ও বিল পরিশোধসহ দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চান।

এ চাহিদা পূরণে ইউসিবি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইউসিবি ওয়ানের মাধ্যমে হিসাব খোলা, অন্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ ও মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়। চলতি বছর দেশে প্রথম ওপেন-এপিআইভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা চালুর ঘোষণাও দিয়েছে ইউসিবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি গ্রাহকসেবার মান বাড়ানো, পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে যুক্ত করতে ইউসিবির বিশেষ উদ্যোগ কী?

আব্দুল্লাহ আল মামুন : গ্রাহকদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য ও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। ইউসিবি ওয়ানের মাধ্যমে ঘরে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব খোলা, নিজস্ব ও অন্য ব্যাংকের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এবং বিভিন্ন বিল পরিশোধ করা যায়। এ ছাড়া ক্যাশ বাই কোডের মাধ্যমে ইউসিবির নির্দিষ্ট এটিএম থেকে ডেবিট কার্ড ছাড়াই টাকা তোলার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউসিবি প্রথম ওরাকলের ওপেন এপিআইয়ের সর্বাধুনিক সংস্করণ ১৪.৭ ব্যবহার শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আমাদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা কীভাবে নিশ্চিত করছেন?

আব্দুল্লাহ আল মামুন : গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। তথ্যের অননুমোদিত ব্যবহার, প্রকাশ ও প্রবেশাধিকার ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। এসব ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা ও উন্নত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইউসিবি ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ২৭০০১:২০২২ সনদ অর্জন করেছে। কার্ড ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় গত সাত বছর ধরে পিসিআই ডিএসএস সনদ বজায় রেখেছে ব্যাংকটি।

ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণা প্রতিরোধে ইউসিবির অবস্থান কী?

আব্দুল্লাহ আল মামুন : ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট লেনদেন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার্ড বা হিসাবের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ইউসিবির নিরাপত্তা নির্দেশনায় সন্দেহজনক লেনদেন বা তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আমাদের ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে এখন পর্যন্ত প্রতারণার ঘটনা ঘটেনি বলে আমরা মনে করি। তবে ডিজিটাল লেনদেনে ঝুঁকি এড়াতে গ্রাহকদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক তথ্য বিনিময় কিংবা সন্দেহজনক লেনদেন থেকে বিরত থাকা জরুরি।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে ইউসিবি নতুন কী কী সেবা চালুর উদ্যোগ রয়েছে?

আব্দুল্লাহ আল মামুন : খুচরা ব্যাংকিংকে আরও গ্রাহকবান্ধব করে তুলতে আমরা কাজ করছি। গ্রাহকরা এখন সহজেই হোমলোন, কারলোনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারছেন। ইউসিবি ওয়ানের মাধ্যমে ডিজিটাল হিসাব খোলা, অর্থ স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, কার্ড ব্যবস্থাপনা ও আমানত স্কিমসহ দৈনন্দিন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রাহকের প্রয়োজন ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব সেবা আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক ও করপোরেট গ্রাহকদের ব্যাংকিং কার্যক্রম দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করাও আমাদের লক্ষ্য। এরই মধ্যে করপোরেট গ্রাহকরা নিজেদের অফিস থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছেন। দ্রুত এ সুবিধা আরও বেশি করপোরেট গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রমেও ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়িয়ে গ্রাহকের সময় ও পরিচালনগত জটিলতা কমাতে চাই। ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান উপায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত