শত বছরেও প্রাসঙ্গিক নজরুলের ‘সাম্যবাদী’

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

শত বছর আগে কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় সাম্য ও মানবতার যে বার্তা দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন আজও হয়নি। সমাজে এখনো বৈষম্য ও ধর্মীয় বিভাজন প্রবল। কবিতাটির শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল চর্চা কেন্দ্র-বাঁশরী আয়োজিত আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সর্বজন কথার সম্পাদক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেন, ‘শত বছর আগে নজরুল এই কবিতা লিখেছেন। এখনো তা প্রাসঙ্গিক। কারণ সমাজে এখনো সাম্য প্রতিষ্ঠা পায়নি। নজরুলের সাহিত্য ও ভাবনার প্রভাব সমাজে দেখতে পাচ্ছি না, বরং প্রবল বৈষম্য দেখতে হচ্ছে।’

নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, সাম্যবাদী কবিতা লেখার পাশাপাশি নজরুল হামদ, নাত ও গজল রচনা করেছেন। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সাম্যের দর্শন থেকেই এটি সম্ভব হয়েছে। অথচ বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নজরুলের লেখা বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা থাকলেও তাঁকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ তাঁর পূর্ণাঙ্গ চিন্তা উপলব্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ মওলা বলেন, ‘আমরা যে বৈষম্যের মধ্যে বাস করছি, তার বিরুদ্ধে নজরুল একশ বছর আগেই দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ আমরা তাঁকে খণ্ডিত করে ফেলেছি। তিনি একটি মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নজরুল চর্চা কেন্দ্র-বাঁশরীর সভাপতি ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা নজরুল চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রতিদিন তাঁর চেতনা ধারণের চেষ্টা করছেন।

অনুষ্ঠানে বাঁশরীর শিল্পীরা ‘জয় হোক’ গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া ‘ঈশ্বর’, ‘নারী’, ‘কুলি মজুর’, ‘মানুষ’ ও ‘পাপ’সহ নজরুলের ১১টি কবিতা আবৃত্তি করা হয়। সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটু মুন্সী।

উল্লেখ্য, কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘সাম্যবাদী’ কবিতাটি রচনা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত