ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা তার বিরোধী শিবির, কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দলের আপত্তি থাকায় রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর এখনই ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার তেমন কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। আলজাজিরার প্রতিবেদনে নতুন সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলার সময় নেতানিয়াহুই দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকছেন বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন পর্যন্ত চলতে পারে।
ইসরায়েলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের সময় সংযত থাকার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কম স্বাধীনতা ব্যবহারের রীতি রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের থাকবে। বিরোধী জোটের গাদি আইজেনকোটও জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক স্বার্থে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আমার আহ্বান, নেতানিয়াহু এমন একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী, যার কোনো ম্যান্ডেট নেই এবং জনগণের আস্থাও নেই। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে শক্ত থাকুন।’
তবে নেতানিয়াহুকে হটাতে দেশটির বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর সঙ্গে জোট করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আরব ইসরায়েলি নেতা আহমাদ তিবি। তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্য এবং পার্লামেন্টে আরব সদস্যদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান। ‘চেঞ্জ ব্লক’ হলো প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারকে নির্বাচনে হারিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা একটি বিরোধী জোট। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি, ইয়ার লাপিদের ইয়েশ আতিদ, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস, নাফতালি বেনেটের বেয়াখাদ এবং আভিগদোর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতিনু এই জোটে রয়েছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ৯০ শতাংশ ফল গণনার পর ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন, যা তাদের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য। দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই হিসাব পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, নিয়মিত ভোটকেন্দ্রগুলোর ফল যাচাইয়ের পাশাপাশি সেনাসদস্য, কূটনীতিক, বন্দি ও নিজ এলাকার বাইরে ভোট দেওয়া অন্যদের ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোট ‘ডাবল এনভেলপ’ বা দ্বিস্তর খামের ভোট হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের ফলের পর ইসরায়েলের আর্থিক বাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা শেকেলের দর প্রায় ১.৬ শতাংশ কমে ৩.১০ শেকেলে পৌঁছেছে। একই সময়ে তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলো ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।