৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ‘স্টার ট্রেক’ তারকা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পিএম

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন। শেক্সপিয়রের নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এই ব্রিটিশ অভিনেতা ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ এবং ‘এক্স-মেন’ ছবির ফ্র্যাঞ্চাইজ়িতে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।খবর বিবিসি

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। অ্যালঝাইমার্স ডিজিজ এবং লিউই বডি ডিমেনশিয়ার সঙ্গে লড়াই করেই মারা গেলেন এই অভিনেতা। 

প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন তার স্ত্রী সানি ওজেল। অ্যালঝেইমারস ডিজিজ ও লুই বডি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর স্বল্প সময়ের অসুস্থতার মধ্য দিয়ে তার মৃত্যু হয়।

আরও জানানো হয়েছে, জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গেই কাটিয়েছেন অভিনেতা। আর সঙ্গে ছিল, লাইভ সঙ্গীত, সকলের প্রার্থনা, চোখের পানি, হাসি।

১৯৪০ সালের ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মিরফিল্ড শহরে জন্ম প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা তার শৈশব ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। ছোটবেলায় অভিনয়ই হয়ে ওঠে তার আশ্রয়। ১২ বছর বয়সে এক শিক্ষকের কাছ থেকে শেক্সপিয়রের নাটক ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’ সম্পর্কে জানার পর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার।

১৯৬৬ সালে ব্রিস্টল ওল্ড ভিক-এ স্কলারশিপ পাওয়ার পর ‘রয়েল শেক্সপিয়ার কোম্পানি’-তে যোগদানের মাধ্যমে অভিনয়ে তার প্রথম পেশাদার পদচারণা শুরু হয়।
১৯৬৭ সালে ‘করোনেশন স্ট্রিট’ নামের একটি সোফ অপেরার পর্বে একজন অগ্নিনির্বাপক (ফায়ারম্যান) হিসেবে তার টেলিভিশনে অভিষেক ঘটে। দুই দশক ধরে একাধিক টিভি চরিত্রে অভিনয়ের পর ১৯৮৭ সালে ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজ এবং এর পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে 'ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড' চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য পান।

২০০০ সালে ‘এক্স-মেন’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অভিনেতা স্যার ইয়ান ম্যাককেলেনের পাশাপাশি 'প্রফেসর এক্স' চরিত্রে অভিনয় করেন স্টুয়ার্ট। পরে ২০০৯ সালে ‘ওয়েটিং ফর গডো’ নাটকে ম্যাককেলেনের সাথে আবার মঞ্চে ফিরে আসেন তিনি।

থিয়েটার, টেলিভিশন, সিনেমা এবং ব্রডওয়ে— বিনোদনজগতের বিভিন্ন মাধ্যমে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন তিনি। ছয় দশক বিস্তৃত ক্যারিয়ারে স্টুয়ার্ট একাধিক পুরস্কার, হলিউড ওয়াক অব ফেমে একটি তারকা এবং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে নাইটহুড খেতাব অর্জন করেন।

তবে বিশ্বখ্যাত এই অভিনেতার দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা শৈশব ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তার বাবা মদ্যপ হয়ে পড়েন এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেসজনিত সমস্যায় ভুগতেন বলে জানিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট। মায়ের ওপর বাবার শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। এমনকি মাকে রক্ষা করতে বাবা-মায়ের মাঝখানে দাঁড়ানোর স্মৃতিও পরে তুলে ধরেছিলেন এই অভিনেতা।

শৈশবে বারবার পারিবারিক সহিংসতা দেখার পর ২০০৭ সালে গৃহস্থালি নির্যাতন বিরোধী দাতব্য সংস্থা ‘রিফিউজ’ এর রাষ্ট্রদূত (অ্যাম্বাসেডর) হন। ‘রিফিউজ’-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হেটি বার্কওয়ার্থ-ন্যান্টন জানান, এই কাজের প্রতি তার  ‘অবিচল নিষ্ঠা ও আবেগ দেখার সৌভাগ্য’ তার হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘স্টুয়ার্ট আমাকে বলেছিলেন যে তিনি তার মায়ের সম্মানে এই কাজটি করেছিলেন। নিজের কণ্ঠস্বর সোচ্চার করার মাধ্যমে তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধি করেছিলেন এবং বিষয়টির সাথে জড়িত বাধা ও সামাজিক ট্যাবু ভেঙে দিয়েছিলেন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত