এবার বিজেপিকে এক হাত নিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার বিস্ফোরক মন্তব্য করে আসছেন বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। কয়েকদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে দলটির বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলে আলোচনার জন্ম দেন এই সিনিয়র অভিনেতা। এবার সরকারের সমালোচকদের ‘দেশবিরোধী’ ও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে আক্রমণ করার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।  এক ভিডিও বার্তায় নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘গর্বিত নকশাল’ বলে পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেতা।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ভিডিওতে শাহ ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই) ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। অভিনেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়া কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা দেশের তরুণদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, সরকারের স্বঘোষিত রক্ষকেরা তার মতো মানুষকে নানা তকমা দিয়ে থাকেন। তার কথায়, ‘এ ছাড়া আর কী কী তকমা আমার মতো মানুষের গায়ে সেঁটে দিয়েছেন এই চৌকিদারেরা—দেশবিরোধী, টুকরে টুকরে গ্যাং, আর কে জানে কী কী!’ এরপর সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে অভিনেতা বলেন, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং তো সরকার নিজেই।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তা্র প্রশ্ন, ‘দেশের তরুণদের মনোবল ভাঙতে, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করতে এবং গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে আপনারা আর কত দূর যাবেন?’ সরকারের আশপাশের লোকজনের সমালোচনা করে তাদের একদল নির্বোধ ও অসৎ ব্যক্তি বলেও মন্তব্য করেন নাসিরুদ্দিন শাহ। শুধু তাই নয়, ভিডিওতে একে একে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তার ভাষ্য, প্রথমে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, আর এখন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনা মনে রাখা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সম্প্রতি কলকাতার এসআরএফটিআইয়ের ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। প্রশাসনিক জবাবদিহি, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শাহও। অন্যদিকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ এবং ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র অনুমোদনের সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানাচ্ছেন। ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত