বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় সংকটের সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে টোকিওর বিকল্প রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপানের নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নতুন এই আইনের আওতায় যোগ্য প্রিফেকচারগুলো (প্রশাসনিক অঞ্চল) বিকল্প রাজধানীর মর্যাদা পেতে আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা কিয়োদো নিউজ।
বড় ধরনের দুর্যোগের সময় জাতীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টোকিওকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়াও এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে রাজধানী অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল জাপান ইনোভেশন পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম জাপানে তাদের প্রধান রাজনৈতিক ঘাঁটি ওসাকাকে টোকিওর আদলে একটি বড় মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বিকল্প রাজধানী প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় রাজধানীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রাথমিক নীতিমালা ও এ সংক্রান্ত সময়সূচি আগামী নভেম্বরে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
নতুন আইনে বিকল্প রাজধানী হিসেবে মনোনীত অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর ছাড়সহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রিফেকচারগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী কোনো অঞ্চলকে বিকল্প রাজধানী হিসেবে মনোনীত করতে পারবেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিকল্প রাজধানীর সংখ্যা একটিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। ফলে একাধিক প্রিফেকচারও এই মর্যাদা পেতে পারে।
এ পর্যন্ত অন্তত চারটি প্রিফেকচার বিকল্প রাজধানীর মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এগুলো হলো—উত্তরের হোক্কাইডো, মধ্য জাপানের আইচি, পশ্চিমাঞ্চলের ওসাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফুকুওকা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার গত মঙ্গলবার বিকল্প রাজধানীর মর্যাদা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ করে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে।
নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী কোনো প্রিফেকচারকে জাপানের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ২ দশমিক ১ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক অবদান রাখতে হবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে এমন একটি শহর থাকতে হবে, যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ১ দশমিক ২ শতাংশ বসবাস করে।
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগের সময় রাজধানী টোকিওর ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরও বিকেন্দ্রীকরণের পথ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।